ফরিদপুরে নিহতদের পরিবার পাচ্ছে ৫ লাখ, আহতরা ৩

0

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের কানাইপুরের সড়কে আজ মঙ্গলবার সকালে ঝড়েছে ১৩ তাজা প্রাণ। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি নিয়ে এরপরই বেরিয়ে এসেছে নানা তথ্য। জানা গেছে, ইউনিক পরিবহনের যে বাসের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি রাস্তায় চলছিল ফিটনেস ছাড়পত্র ও ট্যাক্স টোকেন ছাড়াই। এমনকি যে সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেই রুটে চলাচলের অনুমোদনও ছিল না বাসটির।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন জানিয়েছে, বাসটির চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে চালানোর অনুমোদন (রুট পারমিট) থাকলেও ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে তা আর হালনাগাদ করা হয়নি। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ করেছিল বাসটি, যার মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালের নভেম্বরে।

অন্যদিকে যে পিকআপের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়, পণ্য পরিবহনের সেই পিকআপটিও বিধি লঙ্ঘন করে যাত্রী পরিবহন করছিল। পুলিশ জানিয়েছে, হতাহতরা সবাই পিকআপের যাত্রী ছিলেন।

এর আগে এদিন সকালে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে উত্তরা ইউনিক পরিবহনের একটি বাস মাগুরা যাচ্ছিলো। পথে ফরিদপুরের কানাইপুরের দিপনগর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীতদিক থেকে আসা পিকআপভ্যানের সঙ্গে ওই বাসের ধাক্কা লাগে। এতে দুমড়ে-মুচড়ে যায় পিকআপভ্যানটি। ঘটনাস্থলে ১১ জন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন মারা যান।

এরপরই ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের ৫ লাখ, আহতদের ৩ লাখ এবং মরদেহ দাফনের জন্য আরও ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুল আলম বলেন, পিকআপভ্যানটি ভাড়া করে আলফাডাঙ্গা থেকে ফরিদপুর শহরে যাচ্ছিলেন যাত্রীরা। পথে মাগুরাগামী বাসের সঙ্গে ওই পিকআপভ্যানের মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়।

এদিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ঘটে যাওয়া এ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাক-পিকআপসহ পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রায় ২৫-৩০ জন যাত্রী নিয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে ঢাকায় আসছিল। নিহত সবাই পিকআপের যাত্রী ছিলেন। সুতরাং পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির দায় এড়াতে পারে না।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতারা নিহত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ ও চিকিৎসা শেষে পুনর্বাসনের জন্যথ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। এ ছাড়া বিবৃতিতে নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা, শোকসন্তুপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.