সার্বভৌম বাংলাদেশের বিজয়ের আজ ৫২ বছর পূর্তির দিন। দেশ ১৯৭১ সালে যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি পেয়েছিল স্বাধীন দেশ, সেই শহীদদের স্মরণে শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতের প্রথম প্রহরেই জাগ্রত হয় স্মৃতিসৌধ এলাকা। ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোর থেকেই লাখো মানুষ হাজির হন স্মৃতিসৌধ এলাকায়। শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে, পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে তারা স্মরণ করছেন দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বিলিয়ে দেওয়া বীর শহীদদের।
বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের গৌরবময় দিন আজ। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন, পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন ভূ–খণ্ডের নাম জানান দেওয়ার দিন। রক্তনদী পেরিয়ে জন্ম নেওয়া আমাদের প্রিয় স্বাধীন। আনন্দ–বেদনায় মিশ্র মহান বিজয় দিবস আজ। বাঙালির যুদ্ধজয়ের আনন্দের এবং আত্মপরিচয় লাভের দিন। বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠতম অর্জনের দিন আজ। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছিল জাতীয় স্বাধীনতা; বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছিল স্বাধীন–সার্বভৌম ভূ–খণ্ড বাংলাদেশ। এ অর্জন এনে দিয়েছে একটি স্বাধীন জাতিসত্তা, পবিত্র সংবিধান, নিজস্ব মানচিত্র ও লাল–সবুজ পতাকা।
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর স্মরণ করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করা ‘সোনার বাংলা’। আমাদের লাল–সবুজের পতাকা অর্জন, সেই সঙ্গে দেশ গড়ে তোলার রক্তশপথের কথা। মনে করিয়ে দেয় লাখো প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া এই স্বাধীন দেশে অনাহারে–অভাবে থাকা মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর কথা। তাই এই ডিসেম্বর অঙ্গীকারের মাস, প্রত্যয়বদ্ধ হওয়ার মাস। নতুন চেতনায় জেগে ওঠার মাস। দেশপ্রেমকে শাণিত করার মাস। এত বছর পরও আমরা জাতিগত জীবনে যা অর্জন করতে পারিনি, জাতি হিসেবে আমাদের যেসব স্খলন তার উত্তরণ ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে ঘরে ঘরে, সমাজে–রাষ্ট্রে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য শপথ নেওয়ার দিন আজ। আমাদের অধিকার যেমন আমরাই ভোগ করব, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করার দায় ও দায়িত্বও আমাদের। জেগে উঠতে হবে সবাইকে এক হয়ে। অর্জিত বিজয় যেন ফ্রেমে বাঁধা ছবি, কুচকাওয়াজ আর পতাকা উত্তোলনে সীমাবদ্ধ না থাকে, সত্যিকারের বিজয় মূর্ত হোক শহীদদের স্বজনের চোখে–মুখে, গ্রামে–গঞ্জে, রাজনৈতিক ভ্রাতৃত্বে আর নেতৃত্ব্বে। বিজয় হোক ত্যাগে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্মৃতিচারণ, আলোচনা, গণসঙ্গীত, চিত্রাংকন, মিছিল আর শোভাযাত্রাসহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় স্মরণ করা হবে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। কৃতজ্ঞ জাতি শ্রদ্ধাবনত হূদয়ে স্মরণ করবে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান পুরুষ বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করা হবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র ভারতকে, যারা সে সময় ১ কোটি মানুষকে আশ্রয়, মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং আর সাহস দিয়েছিল। স্মরণ করা হবে সাবেক সোভিয়েত রাশিয়াসহ অন্য বন্ধুরাষ্ট্রের ও ব্যক্তির অবদানের কথা।
বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সাধারণ ছুটি। সরকারি–বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উড্ডীন রাখা হবে। ঘরে ঘরে উড়বে লাল–সবুজ পতাকা। বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আজাদীসহ সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। বাংলাদেশ বেতার, বিটিভি, বেসরকারি রেডিও এবং টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।