বাসচাপায় রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম রাজীবের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। এ মামলায় জাবালে নূরের মালিক ও বাসচালকসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন করেছেন আদালত।
আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েস ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ১ নভেম্বর তারিখ ঠিক করেন।
আসামির মধ্যে জাবালে নূরের একটি বাসের মালিক মো. শাহাদাত হোসেন আকন্দ, চালক মাসুম বিল্লাহ, তার হেলপার মো. এনায়েত হোসেন এবং আরেক বাসের চালক মো. জোবায়ের সুমন অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
জাবালে নূরের অপর বাসের মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং হেলপার মো. আসাদ কাজী পলাতক রয়েছেন।
কাঠগড়ায় উপস্থিত চার আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। তাদের পক্ষ থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হলেও বিচারক তা নাকচ করে অভিযোগ গঠন করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিনদুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪-১৫ জন ছাত্রছাত্রীদের ওপর বাস উঠিয়ে দেন চালক মাসুম বিল্লাহ। ঘটনাস্থলে দুজন শিক্ষার্থী মারা যান। সেদিন বাস দুটি দুই থেকে তিন বার ওভার ট্রেকিং করেন।
গেল ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের পাশে বাসে ওঠার অপেক্ষায় থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একদল শিক্ষার্থীদের ওপর জাবালে নূরের বাসটি উঠে গেলে নিহত হন দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম রাজীব। আহত হয় আরও ১০-১৫ শিক্ষার্থী।
ঘটনার দিনই দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলা নং ৩৩ (৭) ১৮।
দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে টানা নয়দিন আন্দোলন করে নয় দফা দাবি তুলেছিল শিক্ষার্থীরা। পরে প্রধানমন্ত্রী তাদের নয় দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে সরে আসে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গেল ১ আগস্ট জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআরটিএ)।