Sunday, September 27

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর ও অমিত আটক

0

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে গুলশানে পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে দলের স্থায়ী কমিটির এই সদস্যকে আটক করা হয় বলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ তার সঙ্গে ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, আমরা এক গাড়িতেই ছিলাম। হঠাৎ পুলিশ প্লাজার সামনে একটি মাইক্রোবাস আমাদের গাড়ির সামনে এসে দাড়ায়। পরে ভেতর থেকে কয়েকজন লোক এসে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

ওদিকে, শান্তিনগরের বাসা থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গয়েশ্বরকে আটকের বিষয়ে পুলিশের কোনো ভাষ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে বিরোধীদলশুণ্য রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে চায় বর্তমান সরকার। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে ধ্বংস করে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্যই সরকার একদিকে যেমন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সপ্তাহের অধিকাংশ দিন আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করছে একইভাবে বিএনপি’র জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ দেশব্যাপী প্রতিনিয়ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে পথের কাঁটা দুর করতে চাচ্ছে। সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা ও আটককে তাদের প্রাত্যহিক কর্মে পরিণত করেছে। বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তার সরকারের অশুভ ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী।’

মির্জা আলমগীর বলেন, ‘আমি বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাঁর নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।’

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার সময় নয়াপল্টন কার্যালয়ে ব্রিফিং করে বলেন, ‘গয়েশ্বর রায় একজন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এ রকম একজন জাতীয় নেতাকে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া কোন সভ্য দেশের সরকারের আচরন নয়। এর মাধ্যমে সরকার কি বার্তা দিতে চাইছে? তারা বলতে চাইছে আমরা যা বলব তাই করব, তাই হবে। ৮ই ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে সরকার একটি অশুভ পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে।’ রিজভী আরো বলেন, ‘সরকার কি মনে করে একজন গয়েশ্বর রায়কে তুলে নিলেই বিএনপি নেতাকর্মীরা ভয় পেয়ে যাবে? বরং বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী শক্তি আরও ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হবে। আমরা গয়েশ্বর রায়ের হদিশ চাই। তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে হয়রানী করা হচ্ছে। ৮ তারিখ তার বিরুদ্ধে কোন অন্যায় রায় দেয়া হলে তা মোকাবিলায় দেশবাসী প্রস্তুত। বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রস্তুত। গোটা দেশের মানুষ তা প্রতিরোধ করবে।’

বিএনপির অপর তিন নেতার বাড়িতে তল্লাশি

ওদিকে, বিএনপির অপর তিন নেতার বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ আহসান এর পল্লবীর বাসায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিন বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী সোহেল এর সার্কিট হাউসের বাসায় এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.