Thursday, August 13

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমার সরকার ভিন্ন পথে হাঁটছে-জন কেরি

0

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি মন্তব্য করেেন,  রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমার সরকার ভিন্ন পথে হাঁটছে।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন জন কেরি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে তা প্রশংসনীয়। এই সঙ্কট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় কাজ করে যাবে।

এ সময় তিনি জানান, প্যারিস চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য যে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা উল্লেখ ছিল, অঙ্গীকার অনুযায়ী সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে বাইডেন প্রশাসন।

জন কেরি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতেই আমার আজকের এ ঢাকা সফর। বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বাইডেন প্রশাসন এরইমধ্যে জলবায়ুবিষয়ক প্যারিস চুক্তিতে আবার যোগদান করেছে। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমাদের একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য জলবায়ু বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে। জলবায়ুর ক্ষতিজনিত কারণে পৃথিবীতে বন্যা খরাসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন জলবায়ু বিষয়ে অমনোযোগী থাকায় আমরাই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছি।

কেরি বলেন, বাইডেন প্রশাসন জলবায়ু বিষয়ে যে সম্মেলনের আহ্বান করেছে তার মূল উদ্দেশ্য, সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করে সবুজ পৃথিবী প্রতিষ্ঠা করা। বাংলাদেশ জলবায়ুজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত একটি দেশ। জলবায়ুজনিত ক্ষতি মোকাবেলায় নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে কাজ করছে বাংলাদেশ, এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আসন্ন সম্মেলনে বাংলাদেশ যোগ দেয়ার উৎসাহ প্রকাশ করায় আমরা আনন্দিত। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করে বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করা যাবে।

তিনি বলেন, এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো সকলে মিলে সবুজ পৃথিবী প্রতিষ্ঠা করা। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তা মোকাবেলা নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিয়েছে।

এ কারণে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, সম্মেলনে বাংলাদেশ যোগ দেয়ার উৎসাহ প্রকাশ করায় যুক্তরাষ্ট্র আনন্দিত। তারা বিশ্বাস করেন, সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বিশ্বকে সহযোগিতা করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে কেরি বলেন, করোনা ঝুঁকি মোকাবেলায় আমরা ভ্যাকসিনেশনে বৈশ্বিক সহযোগিতা চাই। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করে। যার অর্ধেক নির্গমন আর অর্ধেক অভিযোজন খাতে ব্যয় করবে। এটা অত্যন্ত ভাল উদ্যোগ। আমরাও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

কেরির ঢাকা সফর প্রসঙ্গে মোমেন জানান, আগামী ২২-২৩ এপ্রিল ক্লাইমেট লিডার্স সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাতে ঢাকায় এসেছেন তিনি। চলতি বছর নবেম্বরে জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কপ-২৬ এ বাংলাদেশ অংশ নেবে।

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে তারা ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারসহ দুই দেশের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন কেরি। এ সময় বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

২২ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাতে তিনি ঢাকায় আসেন। ৪০টি দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের অংশগ্রহণে ভার্চুয়ালি এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। বর্তমানে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের চেয়ারম্যানও বাংলাদেশ।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.