লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে অঘোষিত লক ডাউন যেন শাট ডাউনে পরিণত হয়েছে লালমনিরহাটের কর্মজীবি মানুষজনের জীবন-জীবিকায়। গোটা দেশের নেয় লালমনিরহাটেও বন্ধ গেছে গণ পরিবহনসহ বিভিন্ন দোকানপাট। এতে অটো চালক, ভ্যান ও রিকশা চালক, চা-পানের দোকানদার, হোটেল শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিকসহ ভিক্ষুকরা পরেছেন চরম বিপাকে। নিম্ন আয়ের এ মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে আয় না থাকায় অতি কষ্টে জীবন-যাপন করছেন তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্মহীন মানুষজনের জন্য লালমনিরহাটে যে সরকারী ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। এ ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে জনপ্রতিনিধিদের হিমশিমও খেতে হচ্ছে। সরে জমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পাওয়া গেছে এমন তথ্য।
জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, জেলার ৪৫টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় সরকারি ভাবে এ যাবত মোট ৩১৯ মেট্রিক টন চাল ও ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। যা মাত্র ৩১ হাজার ৯ শত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। সেই হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে মাত্র ৭৫টি পরিবার সরকারী ত্রাণ পেয়েছেন। বে-সরকারী ভাবেও যদি সমপরিমান ত্রাণ দেয়া হয়ে থাকে তাহলে প্রতিটি ওয়ার্ডে মাত্র দেড় শত পরিবার এ পর্যন্ত ত্রাণ পেয়েছেন। কিন্তু একটি করে ওয়ার্ডে হাজার হাজার মানুষ ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য এ মুহুর্তে।
অনেকের অভিযোগ- যাদের ঘরে খাবার আছে শুধু তারাই পাচ্ছেন এসব ত্রাণ। ফলে বি ত হচ্ছেন গ্রামের ত্রাণ পাওয়ার মত আরো অনেকেই। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও বেসরকারি সংগঠনগুলো শুধু মাস্ক, সাবান, সেনিটাইজার, হ্যান্ডগ্লোভ্স বিতরণ করলেও তাদের পেটের খাবার কেউ দিচ্ছেন না বলেও জানান তারা। তাই অনেকেই পরিবার পরিজনের মুখে এক মুঠো ভাত তুলে দিতে করোনা সম্পর্কিত সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছেন তাদের আয় করার একমাত্র উপকরণটি নিয়ে। করোনা প্রভাবে ব্যবসা বাণিজ্য ঠিকমত না হওয়ায় সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল কাসেম সাবু মিয়া বলেন, আমি ইউনিয়নে ৪ হাজার পরিবারের ত্রাণের চাহিদা দিয়েছি। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ৪ শত পরিবারের ত্রাণ পেয়েছি। এ ত্রাণ বিতরণ করা নিয়ে আমি বিপাকেও পড়েছি। একই কথা বলেন ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ। তিনি বলেন, আমি ৩ হাজার ৬ শত পরিবারের ত্রাণের চাহিদা দেয়ার বিপরীতে পেয়েছে মাত্র ৪ শত পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল ও কিছু আলু।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জমান সুজন বলেন, মানুষের চাপ সামলানো যাচ্ছে না। কর্মহীন মানুষের চাপে বাড়িতেই থাকা যাচ্ছে না। আমার উপজেলায় ২০ হাজার পরিবারকে এই মুহুর্তে ত্রাণ দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু সরকারী ভাবে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৭ শত পরিবারকে ও আমি ব্যক্তিগত ভাবে ২ হাজার পরিবারকে ত্রাণ দিয়েছি। দ্রুত সরকারি পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা প্রয়োজন। এ জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দরকার।
লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন অধিদফতর সূত্র জানায়, জেলার ৪৫টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ১ লাখ ৭ হাজার ৩১৫টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের চাহিদার একটি তালিকা পাওয়া গেছে। ত্রাণ সামগ্রী চেয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।