Wednesday, August 26

“শান্তিচুক্তির”২২ বছরে পরও পাহাড়ে থামেনি সংঘাত, ঝড়ছে রক্ত

0

কিকিউ মার্মা, বান্দরবান : ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২২ বছর পূর্তি আজ (২রা ডিসেম্বর)। ১৯৯৭ সালের এই দিনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ফলে বন্ধ হয় দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাত। চুক্তির পরে পাহাড়ে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও বেড়েছে সংঘাত। নতুন নতুন দল ও বাহিনী গঠিত হয়ে জড়িয়ে পড়েছে অপহরণ ও খুনের মত ঘটনায়। ফলে পাহাড়ে এখনও ফিরেনি শান্তির পরিবেশ।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে জনসংহতি সমিতির মধ্যে দফায় দফায় বৈঠকের পর ১৯৯৭ সালে ২রা ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি। যা শান্তি চুক্তি নামে পরিচিত। চুক্তির পরে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামটিতে চার আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জড়িয়ে পড়ে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে। মারা যান বহু মানুষ। এই সময় পাহাড়ে একমাত্র শান্তিপূর্ণ এলাকা ছিল বান্দরবান। কিন্তু এখানেও সম্প্রতি মগ বাহিনী নামে তৈরি হয় একটি সশস্ত্র গ্রুপ। এই বাহিনী গঠনের পর থেকে আওয়ামলীগ ও জেএসএস উভয় দল থেকে মারা যান ৬জন নেতাকমর্ী। এর কারণ হিসেবে পাহাড়ি নেতৃবৃন্দরা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়াকেই দায়ী করছেন।

বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলন সভাপতি, জুয়ামলিয়ান আমলাই বলেন, ভুমি কমিশন কার্যকর হলে, আমরা ধরে নেবো পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এই চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে, এই পাহাড়ে নাম না জানা নতুন নতুন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর আনাগোনা বাড়ছে। এতে পাহাড়ে বসবাসরত সাধারণ মানুষরা আতংকের মধ্যে জীবনযাপন করছে।
জেলা দুনর্ীতি প্রতিরোধ কমিটি সভাপতি,অংচমং মারমা বলেন, বান্দরবান শহরে অনেকদিন আগে শান্তি শৃঙ্খলা ছিল। সেটি আজ আর নেই। এর মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে অনেক প্রাণ ঝরে গেছে এই অঞ্চলে। সরকার দ্রুততার সাথে চুক্তি বাস্তবায়ন করলে, এই পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসবে বলে মত দেন।

এদিকে ১৯৯৭ সালে ২রা ডিসেম্বরে পার্বত্য শান্তি চুক্তির বিষয়ে ও মগ বাহিনী সৃষ্টির পেছনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে দায়ী করে আসছিলেন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। কিন্তু এ বিষয়ে জানতে চাইলে জে এস এস দলের পক্ষ থেকে কেউ কথা বলতে রাজী নন।

বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, একেএম জাহাঙ্গীর জনসংহতি সমিতিকে পাহাড়ী সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, জনসংহতি সমিতির নেতা-কমর্ীরা প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা পাহাড়ের জুম থেকে শুরু করে গরু বিক্রেতা, শাক-সবজি বিক্রেতা, মোটকথা প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছ হতে এই সন্ত্রাসীরা চাঁদা আদায় করছে। এই আদায়কৃত অর্থগুলো কোথায় যায়, এই নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেন।

তিনি আরও বলেন, অশান্তির মুখোশ পড়ে জনসংহতি সমিতির নেতারা পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে শান্তির কথা শোনায়। আর তারপরেই পাহাড়ি জনপদে সৃষ্টি করে অশান্তির ঘূর্ণিঝড়। সেটি হতে দেয়া যাবে না। এই সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ড অচিরেই বন্ধ করে দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন এই নেতা।

মগ বাহিনী প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে এই নেতা বলেন, আসলে কারা মগ বাহিনীর নাম দিয়েছে। আওয়ামী লীগ কখনও কোন সন্ত্রাসের সাথে যুক্ত নয়, সৃষ্টি করা তো দূরে থাক। অবৈধ অস্ত্র হাতে যারা সন্ত্রাস করে তাদের কোনো পরিচয় হতে পারে না। আমি আগেও বলেছি, অবৈধ্য অস্ত্র হাতে যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি করে তারা সন্ত্রাসী।

এখানকার স্থানীয়দের ধারণা পাহাড়ে প্রকৃত শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং পাহাড়ে ভূমি বিরোধ আইন নিষ্পত্তিকরণ আর পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে এসব কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.