মোঃ আয়ুব হোসেন পক্ষী, বেনাপোল(যশোর) প্রতিনিধি: এ বছরের সমাপনির ফলাফলে পরিবারের দারিদ্র্যের কাছে হার মানেনি আরাফাত। সে বড়বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রোকেয়া সুলতানা জানান, বিদ্যালয়ের সর্বচ্ছ সহযোগিতায় কৃতিত্বের সাথে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। আরাফাতের বাবা পেশায় দিনমজুর ভ্যান চালক যা আয়ের প্রধান উৎস। তার আয়ের উপর নির্ভর করে চলে বাবা-মা সন্তানসহ ১০ জন সদস্যের একটি পরিবার। সে যশোর শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের বড়বাড়িয়া গ্রামের লিটন হোসেন টিটুলের ছেলে। পরিচর্যা ও সকলের সহযোগিতা পেলে মেধাবী ছাত্র আরাফাতের সফলতা ধরা দেবেই।
টিআরএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে বর্তমান ৪৯১ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে মুখরিত। এ বছরের প্রথমে দিনে ভর্তি হয়েছে শতাধিক ছাত্র ছাত্রী। যার মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির (খ) বিভাগে সমাপনিতে জিপিএ ৫ পেয়ে ভর্তির হয়েছে মেধাবী ছাত্র আরাফাত। ভর্তি সূত্রে জানতে পারি তার বাবা একজন দিনমজুর ভ্যানচালক । হাড় ভাঙা কষ্ট করে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ বহন করছেন। প্রতিষ্ঠানের কোন সুযোগ-সুবিধা থেকে বি ত হবে না আরাফাত।
ষষ্ঠ শ্রেণির ইংরেজি শিক্ষক অমল কৃষ্ণ মজুমদার বলেন, আরাফাত খুবই মেধাবী ছাত্র লেখা পড়ার জন্য সার্বচ্ছ সহযোগিতা করবো। সকলের সহযোগিতা করলে তার পরিবার ও আরাফাত ভাল করে লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন জানান, আরাফাতের ফলাফল শুনে আমরা গর্বিত । তার বাবার সম্পদ বলতে ভিটেমাটি পাঁচ শতক জমিতে লিটন হোসেন টিটুলের পরিবারের বসবাস। আবাদ করার মত কোন জমি না থাকাই সংসার ও ছেলেদের লেখা পড়ার খরচ বহন করা তার পক্ষে অত্যন্ত কষ্ট সাধ্য হয়ে উঠে । আরাফাতের ছোট ভাই রনি বড়বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র । আরাফাতসহ তার ছোট ভাই ও (বিধবা ফুপুর মেয়ে) ফুপাতো বোনের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাকে ধার-দেনা করতে হয়।
আরাফাতের বাবা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ভ্যান চালিয়ে যে টাকা আয় হয়। এ টাকায় কোনো রকমে সংসার চলে, পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা সকলে সহযোগিতা করলে আরাফাত দেশের গৌরব বয়ে আনবে ।
লিটন হোসেন টিটুল বলেন, দিনদিন দ্রব্যের যেভাবে খরচ বাড়ছে, তাতে কীভাবে ওদের পড়াব এই ভেবে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখি। ছেলে জিপিএ ৫ পেয়েছে কিন্তু ভ্যান চালিয়ে যে আয় হয় ভবিষ্যৎ পড়ালেখা নিয়ে খুব চিন্তা ও ভয় তাড়া করে আমাকে। নেই কলেজে যাওয়ার পরিধেয় পোশাক। এখনও জানি না ছেলের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা।
আরাফাত জানায়, বাবার স্বপ্ন অনেক বড় চিকিৎসক হয়ে গরীব দুঃস্থ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যেতে হবে। বাবার স্বপ্ন পূরণে তার চেষ্টার কোনো ত্রæটি থাকবে না।