মহাকালের আবর্তে আরও একটি বছরকে পেছনে ফেলে শুরু হলো নতুন ইংরেজি বছর। সময়ের পার্থক্যভেদে রাত ১২টা ১ মিনিটে ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে সারাবিশ্বের মানুষ উৎসব আর আনন্দে বরণ করে নিল ২০২০ সালকে। গত বছরের সকল দুঃখ-বেদনা ভুলে বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন ইংরেজি বছর।
এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ইংরেজি বছরকে বরণ করে নেয়া শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা ইংরেজি নতুন বছর উপলক্ষে দেশবাসী, প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে ২০২০ সালকে জাতীয় জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর উল্লেখ করে বলেন, এবছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী সাড়ম্বরে উদযাপিত হবে। এ জন্য গোটা দেশবাসী উন্মুখ হয়ে আছে। তিনি বলেন, নববর্ষ সকলের মাঝে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ-খ্রিস্টীয় নববর্ষে এ প্রত্যাশা করি।
পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। তাই নতুন বছরের অঙ্গীকার হোক মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ। তিনি বলেন, ২০২০ বাঙালি জাতির জন্য একটি বিশেষ গৌরবময় বছর। এ বছরই উদযাপিত হতে যাচ্ছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। আমরা ২০২০ খ্রিস্টাব্দকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছি।
তিনি বলেন, নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনা নিয়ে যাত্রা শুরু হচ্ছে নতুন বছরের। নতুন বছর অর্জন আর প্রাচুর্যের, সৃষ্টি আর কল্যাণে ভরে উঠুক এবং সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি-মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে এই প্রার্থনা করছি।
২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপে অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। জনজীবনে মশা ছিল বড় এক আতঙ্ক। ডেঙ্গুর এমন দশা আর কেউ কখনও দেখতে চায় না নতুন বছরে। নুসরাত, আবরার ফাহাদসহ অমানবিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ড দেখেছে দেশবাসী। দেশের আইনশৃঙ্খলায় স্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করলেও এ দৃশ্য আর দেখতে চান না সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়েও নজর থাকবে সবার। তাদের আশ্রয় দেয়ার ফলে সৃষ্ট নানা সমস্যা কোন দিকে মোড় নেয়, তা খেয়াল রাখবে সবাই।
শিল্পায়নের জন্য আরও বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। শিল্প ও উৎপাদন খাতের বিকাশের জন্য প্রয়োজন ব্যাংক ঋণে সুদের হার এক অঙ্কে নেমে আসা। বহু প্রতিশ্রুতির পরও গেল বছরে তা আসেনি। এটিসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু এ বছরে মিলবে- উদ্যোক্তারা সে অপেক্ষায়ই বসে আছেন।
ছাত্ররাজনীতি নিয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা ঘটেছে ২০১৯-এ। বহু প্রতীক্ষিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন যেমন হয়েছে, তেমনি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার মতো বিষয়ও সামনে এসেছে। প্রগতির পথে ছাত্র রাজনীতি ব্যবহার হবে- এমনটাই প্রত্যাশা দেশের মানুষের।
নতুন বছরে নতুন লক্ষ্য নিয়ে পথ চলার বছর শেষে রাজনীতি, অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্রে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসাবনিকাশ চলছে। নতুন বছরে নেয়া হয়েছে নতুন পরিকল্পনা। নতুন বছরের শুরুতেই নির্বাচনী উত্তাপ ঢাকা সিটি করপোরেশনে। দেশের প্রাণকেন্দ্র ঢাকায় সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন বার্তা নিয়ে আসবে এটিই আশা করছেন সাধারণ মানুষ। নতুন বছরে অর্থনীতিতে সুবাতাস বইবে। রাজনীতিতে সম্প্রীতি আর সুদিন ফিরে আসবে। সমাজের বৈষম্য ঘুচে সমতা ফিরবে এমন প্রত্যাশা রেখে দেশবাসী, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ীসহ সবার প্রতি রইলো ইংরেজি নববর্ষ ২০২০-এর অফুরান শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।