সাদার্ন ইউনিভার্সিটি ও মাসিক দখিনার উদ্যোগে সহিংসতা: নারী ও শিশু-সমাজের করণীয় শীর্ষক সেমিনার আজ সোমবার ইউনিভার্সিটির মেহেদীবাগ ক্যাম্পাসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাসিক দখিনার সম্পাদক প্রফেসর সরওয়ার জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ইঞ্জিনিয়ার এম আলী আশরাফ। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শরীফুজ্জামান, আইকিউএসি’র পরিচালক প্রফেসর এ.জে.এম নুরুদ্দীন চৌধুরী, আইন বিভাগের উপদেষ্টা প্রফেসর মহিউদ্দিন খালেদ, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. ইসরাত জাহান, দখিনার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মুশফিক হোসাইন, দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক আবু তালেব বেলাল, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ মুহাম্মদ জুলকরনাইন ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানসহ শিক্ষকবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর প্রফেসর ইঞ্জিনিয়ার এম আলী আশরাফ বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বর্তমানে একটি সিরিয়াস ইস্যু কারণ সংবাদপত্রে ও টিভিতে আমরা প্রতিনিয়ত এ ধরনের খবর দেখতে পাচ্ছি। তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে যেই বা যারা নারী ও শিশু নির্যাতনে জড়িত তাদের মধ্যে কোন অনুশোচনা দেখা যায় না। সাদা মনের মানুষদের নিরব ভূমিকার কারণে এসব হীন কর্মকান্ড আরও বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। গ্রামে সালিশের নামে দোষী ব্যক্তিকে নির্দোষ হিসেবে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রকৃত অর্থে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা সহযোগিতামূলক নয় অথচ এশিয়ার দেশ জাপানে দেখা যায় প্রত্যেক মানুষ একে অপরের প্রতি আন্তরিক ও সহযোগিতা পরায়ন। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কোন পরীক্ষা না নেওয়া সরকারের একটি চমৎকার উদ্যোগ। পরীক্ষার চাপমুক্ত সময়ে যদি পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নীতি নৈতিকতা শিক্ষা দেয় তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সহিংস আচরণ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
দখিনার সম্পাদক প্রফেসর সরওয়ার জাহান বলেন, নীতি-নৈতিকতার অধঃপতনে আমরা জাতি হিসেবে এখন নিপীড়নের ঊর্ধ্বগগনে অতিক্রম করেছি। নারী ও শিশু নির্যাতনের মত ঘৃণিত কাজ করতে আমাদের বিবেক বাধাগ্রস্ত হয় না। যেকোনো নেতিবাচক কর্মকান্ড করতে আমাদের বুক কাঁপে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। সচেতনার অংশ হিসেবে মাসিক দখিনার ৭ম বর্ষে পর্দাপণ উপলক্ষে সহিংসতা: নারী ও শিশু বিষয়ে ৫৯ তম বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ হয়েছে যাতে সমাজের জাগরণ সৃষ্টিতে উদ্দীপনা আসে। আগে নিজের পরিবারকে সঠিক পথে আনতে হবে, তারপর সমাজ। ঐক্যবদ্ধভাবে সমাধানের পথ খুঁজে বের করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সেমিনারে নারী ও শিশু নির্যাতনের উপর একটি ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেহেনুমা সুলতানা খান। তিনি শিশু অধিকার ফোরাম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের নারী ও শিশু নির্যাতনের তুলনামূলক হার বিশ্লেষণ করেন। এর আগে বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন নিয়ে আল-জাজিরা চ্যানেলের একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার করা হয়।
প্রফেসর মহিউদ্দিন খালেদ বলেন, সর্বোচ্চ মৃত্যুদÐের বিধান রেখে নারী ও শিশু নির্যাতনে দেশে অনেকগুলো আইন আছে তবে প্রমাণের অভাবে ভুক্তভোগীরা ন্যায় বিচার থেকে বি ত হয়। কুরআনের শিক্ষা ও হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর আদর্শ অনুসরণ করতে পারলেই এসব পাপাচার এমনিতে কমে যাবে। অন্যান্য বক্তারা বলেন, মূল্যবোধের অভাব, ধর্মীয় অনুশাসন না মানা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রযুক্তির অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রশ্রয়, অশালীনতা এবং টাকার বিনিময়ে অপরাধ ঢাকার সংস্কৃতি এসব কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ বেড়ে যাচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে সরকারকে মাদক ও জঙ্গি দমনের মত জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে অপরাধী যে হোক না কেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে । অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিৎ বিশেষ করে যুবক যুবতীরা কোথায় যাচ্ছে, কি করছে এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানো।