দেশের প্রায় সব জেলায় কমেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকে। সেপ্টেম্বর মাসকে চিকিত্সকরা ‘ডেঙ্গুর পিক টাইম’ বললেও আগস্টের তুলনায় এই মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম। ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসায় জনমনে ও চিকিৎসকদের মাঝে ফিরছে স্বস্তি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাই পুরোপুরি আশঙ্কামুক্তও হওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মাঝারি নিয়ন্ত্রণ’ হিসেবেই দেখছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৭১৬ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঠিক এক মাস আগে গত ৯ আগস্ট এই সংখ্যাটি ছিল ২ হাজার দুই জন। চলতি বছরের শুরু থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৭ হাজার ২৩০ জন। আর চিকিত্সা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৩ হাজার ৯৪২ জন। এ পর্যন্ত ৯৬ শতাংশ মানুষ চিকিত্সা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।সিরাজগঞ্জে কমে আসছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ জন নতুন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। জেলায় বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ৩৮ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রোববার নতুন করে আরো ১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৯ জন। জেলায় এ পর্যন্ত ৫৪৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫২০ জন।
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬ জন ডেঙ্গু রোগী। গত একমাসে জেলায় ৭২ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে তিন জনে। জেলায় রোববার বিকেল পর্যন্ত কোন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়নি।
এদিকে মশাবাহিত বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা জানতে সিঙ্গাপুরে গেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় জানান, রবিবার রাতে মেয়র সিঙ্গাপুরে পৌঁছান, ফিরবেন এ সপ্তাহের শেষ দিকে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই এক দফা সিঙ্গাপুর ঘুরে এসেছেন মেয়র খোকন; তবে তার সেই সফর ছিল চিকিত্সার জন্য। এবারের সফরে দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আহমেদও মেয়রের সঙ্গী হয়েছেন।