Thursday, September 3

স্বর্ণ আমদানির আবেদনে ৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার

0

স্বর্ণ আমদানির জন্য লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেউ এই লাইসেন্স নিতে চাইলে তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্ত মেনে আবেদন জমা দিতে হবে। আর আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে অফেরতযোগ্য ৫ লাখ টাকা পে-অর্ডার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) থেকে এই আবেদনপত্র বিতরণ শুরু হচ্ছে। আগ্রহীদের অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগে আবেদন করতে হবে।
চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে।

নীতিমালা না থাকায় এতদিন বৈধভাবে কেউ স্বর্ণ আমদানি করত না।চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে স্বর্ণ আসত। মাঝে মধ্যে শুল্ক গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ার পর জানা যেতো চোরাচালানিদের কারবার। স্বর্ণের চোরাচালান ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও তা থেমে ছিল না। গত বছর আপন জুয়েলার্সের ঘটনার পর সারা দেশে স্বর্ণের গয়না বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল জুয়েলারি মালিক সমিতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈধ পথে দেশে স্বর্ণ না আসায় একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারায়,অপরদিকে পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার স্বর্ণ আমদানি উন্মুক্ত করার জন্য স্বর্ণ নীতিমালার ওপর একটি গেজেট প্রকাশ করে। গত বছর ২৯ অক্টোবর এ নীতিমালা জারি করার পর কিভাবে স্বর্ণ আমদানি করতে পারবে, কারা আমদানি করবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর দেয়া হয়।
স্বর্ণ নীতিমালা ৩.১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে স্বর্ণ আমদানি রীতি ও পদ্ধতির অতিরিক্ত হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীণ স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা পূরণে অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার আমদানির নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন করা হবে। অনুমোদিত ডিলার নির্বাচনের কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সম্পন্ন করা হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এ জন্য গাইডলাইন বা নির্ধারিত নির্ণায়ক নির্ধারণ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সবশের্ষ লাইসেন্সের আবেদনপত্র সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছে। সূত্র মতে, আবেদনকারী নিবন্ধিত লিমিটেড কোম্পানি হলে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ১ কোটি টাকা থাকতে হবে। আমদানিকৃত স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার নিরাপদে রাখার জন্য সাড়ে ৭০০ বর্গফুটের কার্যালয় থাকতে হবে। লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীদের অফেরতযোগ্য ৫ লাখ টাকার পে অর্ডার দিতে হবে। লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বর্ণ আমদানির অনুমোদন দেয়ায় দেশে এখন বৈধ পথে স্বর্ণ আমদানি হবে।অর্থ পাচার কমে যাবে। বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.