হাবিব জুয়েল, রাজশাহী : রাজশাহী নগরীর বেসরকারি রয়্যাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে আব্দুল জলিল (৫৫) নামের ওই রোগীর মৃত্যুর পর হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নিহত আবদুল জলিলের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলার নজরপুর গ্রামে। তিনি চামড়া ব্যবসায়ী ছিলেন।
জলিলের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার নাটোরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুল জলিলের হাত ভেঙে গেলে রাতেই তাঁকে রাজশাহী রয়েল হাসপাতালের ৬০৭ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেলা করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের এক নার্স জলিলের শরীরে ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। স্বজনদের অভিযোগ, ভুল অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন পুশ করার কারণেই জলিলের মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, জলিলের মৃত্যুর পর পরই হাসপাতালের নার্স ও অন্যান্যরা সটকে পড়েন। হাসপাতালে গিয়ে কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে কী ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, তা জানা যায়নি। নিহতের স্বজনরা জানান, রোগীর মৃত্যুর পর নার্স রোগীর ওষুধের ফাইলপত্র নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।
তবে হাসপাতালে ষষ্ঠ তলায় হেদায়েতুল ইসলাম তারিফ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের প্রধান হিসাবরক্ষক পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘কোনো চিকিৎসকই চান না তাঁর হাতে রোগী মারা যাক। ওই রোগী হয়তো হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন।’ আবদুল জলিলকে কী ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।’ হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা কোথায় জানতে চাইলে হেদায়েতুল বলেন, ‘এক রোগীর মৃত্যুর কারণে তাঁর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে চিকিৎসক ও নার্সরা আপাতত নিরাপদ অবস্থানে আছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁরা আসবেন।’
এ ব্যাপারে রাজপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ হাসপাতালে যায়। রোগীর স্বজনরা বলেছেন, তাঁরা ময়নাতদন্ত করাবেন না। থানায় অভিযোগও করেননি তাঁরা।