বায়েজিদে সড়কের ওপর ‘কার ওয়াশ’ ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজির অভিযোগ, নেপথ্যে জুয়েল ও তার চক্র

0

বায়েজিদ থানা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার টেক্সটাইল গেট থেকে টেকনিক্যাল মোড় পর্যন্ত সাধারণ মানুষের যাতায়াত এখন বিষিয়ে উঠেছে। একদিকে সরকারি সড়ক দখল করে অবৈধ ‘কার ওয়াশ’ ব্যবসা, অন্যদিকে ফুটপাত ও গাড়ি পার্কিং থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি—এই দুইয়ে মিলে জিম্মি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। অভিযোগের আঙুল স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত চাঁদাবাজ জিল্লুর রহমান জুয়েল ও তার সহযোগী সিন্ডিকেটের উপর। বায়েজিদ থানায় এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে  অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীদের পক্ষ হয়ে টেক্সটাইল এলাকার ফারুক প্রকাশ ইমরান নামের এক ভুক্তভোগী।

সরেজমিনে দেখা যায়, টেক্সটাইল গেটের ভেতর মোড়ে আবুল খায়ের ফ্যাক্টরির ঠিক সামনেই মূল সড়কের ওপর অবাধে চলছে দুটি কার ও বাইক ওয়াশ সেন্টার। কোনো নির্দিষ্ট শেড বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়াই শক্তিশালী মোটরের মাধ্যমে রাস্তায় গাড়ি ধোয়া হচ্ছে। এতে সারাক্ষণ রাস্তা কর্দমাক্ত থাকছে এবং নোংরা পানি ছিটকে গিয়ে পড়ছে পথচারীদের গায়ে।
স্থানীয় এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখান দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কার ওয়াশের পানি ছিটকে আমাদের জামাকাপড় নষ্ট হয়। কিছু বলতে গেলেই ওরা মারমুখী হয়ে ওঠে। কয়েকবার এলাকাবাসী মিলে এগুলো বন্ধ করে দিলেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে কয়েকদিন পরই আবার চালু হয়।”

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কার ওয়াশ ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ।বি দ্যুত লাইন থেকে ‘হুক’ লাগিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। জানা যায়, ওয়াসা বা ভূগর্ভস্থ পানির অবৈধ উত্তোলন করে কার ওয়াশ ব্যবসা চালানো হচ্ছে, যার কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, আবুল খায়ের ফ্যাক্টরির সামনে থেকে টেকনিক্যাল মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অবৈধভাবে অসংখ্য দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সূত্র মতে, প্রতিটি দোকান থেকে জিল্লুর রহমান জুয়েলের নাম করে মাসে ২,০০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
শুধু দোকান নয়, এই দীর্ঘ রাস্তায় দিন কিংবা রাতে যেকোনো যানবাহন দাঁড়ালেই গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা। ‘পার্কিং ফি’র নামে এই টাকা সরাসরি চলে যাচ্ছে জুয়েলের ক্যাশিয়ারদের পকেটে

এলাকাবাসীর দাবি, জিল্লুর রহমান জুয়েল নিজে সামনে না থাকলেও তার একটি শক্তিশালী চক্র পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। এই চক্রের সক্রিয় সদস্যরা হলেন শফিউল আলম শফী, রাব্বানী, ইব্রাহিম,কে এম মনিরুজ্জামান,নুরুল আলম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,এই ব্যক্তিরাই প্রতিদিন দোকানদার ও চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা সংগ্রহ করেন এবং দিনশেষে সেই ভাগ পৌঁছে দেন জুয়েলের কাছে। প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা এখন এই এলাকায় নিত্যনৈমিত্তিক।

থানায় অভিযোগের পরও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এলাকাবাসীরা বলেন, সরকারি রাস্তা দখল করে ব্যবসা এবং প্রকাশ্য দিবালোকে চাঁদাবাজি চললেও বায়েজিদ থানা পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই বললেই চলে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় কীভাবে একটি চক্র জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে?

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.