Wednesday, November 4

নওগাঁয় চিকিৎসা অবহেলায় সরকারি হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

0

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ: নওগাঁর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে ডাক্তার ও নার্সের চিকিৎসায় অবহেলার কারণে নাছরিন আক্তার (২৮) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় প্রসূতির স্বজন ও এলাকাবাসী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ পদর্শন করেছে। মৃত প্রসূতি নাছরিনের স্বজনদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রামাশ্রম গ্রামের সাইফুল ইসলামের গর্ভবতী মেয়ে নাছরিন আক্তার শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে কন্যা সন্তান প্রসব করেন। এর পর প্রসূতির ফুল না পড়ায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রসূতিকে সাপাহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগেনিয়ে আসেন স্বজনেরা। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাছরিন কে ভর্তি করার পরামর্শ দেয়। তাৎক্ষণিক পরিবারের লোকজন নাছরিন কে ভর্তি করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডে নিয়ে যায়। মহিলা ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্সগণ প্রসূতির স্বজনের কাছ থেকে ইঞ্জেকশন করার জন্য দেড় হাজার টাকা দাবী করে। টাকা না দিলে নার্সগণ ইঞ্জেকশন করবেনা বলেও জানিয়ে দেয়।
অপরদিকে প্রসূতির স্বজনদের দাবী, শনিবার সকাল পর্যন্ত প্রসূতি সুস্থ্য ও স্বাভাবিক ছিল। কর্তব্যরত নার্সরেরা প্রসূতির ফুল বের করার জন্য জরায়ু কেটে ক্ষত বিক্ষত করে। এসময় রোগীর জরায়ুপথে প্রচুর রক্তপাত ঘটলে রোগীর স্বজনরা রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কর্তব্যরত রার্সরা রোগীর লোকজনদের কথা না বলে মুখে টেপ দিয়ে বসে থাকতে বলে। শেষ পর্যন্ত কর্তব্যরত চিকিৎসক-নার্সদের অবহেলার কারনে শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাসরিন আক্তারের মৃত্যু হয়। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে
স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডে গেলে দায়িত্বে থাকা ইনচার্জ ডা: নাহিদুজ্জামান মৃত্যু প্রসূতির ব্যাপারে তথ্য না দিয়ে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করে এবং স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তার নির্দেশ ছাড়া এ ব্যাপারে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
পরে হাসপাতালের কর্মকর্তা ডা: ইফতে খাইরুল আলম খান এর সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান, নাছরিন নামের প্রসূতির অবস্থার অবণতি হলে শনিবার সকাল ১০টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ট করা হয়। প্রসূতি স্থানন্তর গাফিলতির কারণে বেলা ১২.৪০ মিনিটে প্রসূতি উপজেলা সরকারি হাসপাতালে মারা যায়। টাকার বিনিময়ে ইঞ্জেকশনের বিষয়ে দায়িত্বে থাকা ডাক্তার-নার্সদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানান।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.