Thursday, November 5

চট্টগ্রাম জ্বালাকুমারী কালী ও শিব মন্দিরের অধীন বায়নাকৃত জায়গা জবর দখলের অভিযোগ

0

চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রাম জেলার বায়েজিদ থানাধীন পি.কে খন্দকিয়া (নাথ পাড়া) এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুরনো জ্বালাকুমারী কালী ও শিব মন্দিরের জায়গা জোরপূর্বক জবর দখলের অভিযোগ পাওয়া যায়।
জ্বালাকুমারী কালী ও শিব মন্দির পরিচালনা পর্ষদের নের্তৃবৃন্দ বুলবুল নাথ ও সাধারণ সম্পাদক লক্ষণ নাথ বলেন, রুপন দেওয়ানজী, উজ্জল দেওয়ানজী ও মহিউদ্দিন মহিম এবং দীর্ঘদিন ধরে এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের জায়গা দখলের পায়তারা করে আসছে।

মন্দিরের ধর্মীয় বিভিন্ন পূজা পার্বন, আচার অনুষ্ঠান পালনের সময় জায়গার সংকুলান না হওয়ার কারণে মন্দিরে আগত লোকজনের বৈঠকখানা নির্মাণের জন্য অনালিশী জায়গাসহ বিগত ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং তারিখ সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে রেজিষ্ট্রিকৃত ১৯২৪৬ নং বায়নানামা সম্পাদনমুলে রেজিষ্ট্রি করি। সংবাদ পাইয়া প্রতিপক্ষগন উজ্জল দেওয়ানজী, মহিউদ্দিন মহিম এবং রুপন দেওয়ানজী ক্ষিপ্ত হইয়া ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং তারিখ সকালে আমাদের মন্দির কতৃপক্ষের বায়নাকৃত জায়গায় অসিয়া উক্ত জায়গা গায়ের জোরে দখল করিয়া নিবে এবং জায়গায় পাকা গৃহ নির্মাণ করিবে বলে হুমকি প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং তারিখে রুপন দ্ওেয়ানজী উক্ত জমিতে জোরপূর্বক মালিকানা সাইনবোর্ড স্থাপন করে। তারই ধারাবাহিকতায় সহযোগীদের নিয়ে পুনরায় ২৯ ডিসেম্বর ১৭ ইং তারিখ উক্ত জমিতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে জায়গার পার্শ্বে ইট বালি সিমেন্ট লোহা কংক্রিটসহ নির্মান সামগ্রী জড় করিয়া প্রায় ৫০/৬০ জন্য মজুর দিয়ে পাকা ইমারত নির্মাণ এবং উক্ত জমি জবর দখল করতে এলে স্থানীয় লোকজন, এলাকাবাসী এবং পুলিশ বাধা দেয়। বাধার মুখে এক পর্যায়ে তারা চলে যেতে বাধ্য হয়।

তবে থেমে থাকেনি তারা। গত ০৭ জানুয়ারী ২০১৮ ইং তারিখ সকালে আবার তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ২০/৩০ জন নিয়ে এসে উক্ত মন্দিরের জমি জবর দখলের চেষ্টা করে। এবারেও স্থানীয় লোকজন, এলাকাবাসী এবং পুলিশের বাধার কবলে পড়ে সন্ত্রাসীরা জমি জবর দখল করতে ব্যর্থ হয়। উপায়ান্তর না পেয়ে জ্বালাকুমারী কালী ও শিব মন্দির পরিচালনা পর্ষদের নের্তৃবৃন্দ বিগত ০৮/০১/১৮ইং তারিখ বিকেল ৩ টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাব চত্ত¡রে উজ্জল দেওয়ানজী, মহিউদ্দিন মহিম এবং রুপন দেওয়ানজীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

মন্দির কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি সজল দেব নাথ জানায়, প্রতি বছর বায়েজীদ থানার পূজা উদ্যাপন পরিষদের অধীনে পি.কে খন্দকিয়া সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সার্বজনীন শ্রী শ্রী শারদীয় দূর্গাৎসব সহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জ্বালাকুমারী ও শিব মন্দির প্রাঙ্গণে পালন করে থাকি। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ থেকেই রুপন দেওয়ানজী মন্দির পার্শ¦ লিখিত মালিক দাবী করে উক্ত মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা উৎসব উদযাপিত না হওয়ার দুরভিসন্ধি করে। বিভিন্ন সময় মামলা, হামলা এবং সন্ত্রাস বাহিনীর ভয় দেখিয়ে ধর্মীয় উৎসব বানচাল করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের কাছে যদি উক্ত জমির লিগ্যাল ডকুমেন্টারি কাগজপত্র এবং দলিলাদি থাকে তাহলে তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং শ্রী শ্রী জ্বালাকুমারী ও শিব মন্দির পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের সাথে বেঠক করে এর সমাধান করতে পারে, কিন্তু তা না করে তারা রাতের অন্ধকারে ট্রাক ভর্তি ইট, বালু, সিমেন্ট এনে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দ্বারা উক্ত জমিতে বাউন্ডারি ওয়াল এবং ইমরারত নির্মান করার জোড় প্রচেষ্টা চালায়।

আমরা তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বরাবর এবং থানায় অভিযোগ করেছি তাতেও তারা ক্ষান্ত হয়নি। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে আমাদের মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার ভয় দেখায়।
পাঁচলাইশ থানার ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি ডাঃ রহমত উল্লাহ বলেন-আমরা তাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেছি। যাতে তাদের এহেন হীন কর্ম থেকে প্রশাসন আমাদের ধর্মীয় অনুভুতির বিষয়টি রক্ষা কল্পে সহযোগীতা করেন। উল্লেখ্য যে,.০৭ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখ রবিবার সকালের জমি জবর দখলের মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও চিত্র দেখে এর ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হয়। ভিডিও চিত্রে উজ্জ্বল কুমার দেওয়ানজীকে লোকজন নিয়ে উক্ত জমিতে কাজের তদারকি করতে দেখা যায়।

তবে এ বিষয়ে তদন্তকালে জানা যায়, রুপন দ্ওেয়ানজী নাথ পাড়া এলাকার পাশে মন্দির সংলগ্নে সাড়ে ৫গনডা জমি বিগত ০৯/০৩/২০১৭ইং তারিখে সাগর কুমার নাথ , পিতা সূর্য মোহন নাথ হইতে ৩৭৮৮ রেজিষ্ট্রীকৃত অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামা দলিল সম্পাদনে তৎসম্পত্তি আমমোক্তার নিযুক্ত হন। গত ০৯/০১/২০১৮ ইং তারিখে রুপন দ্ওেয়ানজী তার ক্রয়কৃত জায়গায় দখলে গেলে শ্যামল নাথ গংরা বাধা দেয় এই মর্মে রুপন দ্ওেয়ানজী নিজে বাদী হয়ে শ্যামলনাথ গংদের বিবাদী করে সি, আর মামলা দায়ের করেন, যার নং ১১/২০১৮।

এ বিষয়ে উজ্জল দ্ওেয়ানজীর কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, এ মন্দিরে বা তার আশেপাশে আমার কোন জমি নেই। আমি কেন দখল করতে যাব। মন্দির কর্তৃপক্ষ আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি দৈনিক পূর্বকোন পত্রিকায় প্রতিবাদ জানিয়েছি।
ঘটনার বিষয়ে ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবুকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্দির কর্তৃপক্ষ ও উজ্জল দ্ওেয়ানজী উভয় পক্ষই নিজস্ব দাবী অনুযায়ী অভিযোগ করেছে। আমি তাদেরকে বৈঠকের নোটিশ দিয়েছি, তাদের দলিলপত্র পর্যালোচনা করে আশা করি একটা নিষ্পত্তি হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম অস্থির অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজর না দিলে যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের হামলার আশংকা দেখা যায়।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.