চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ভর্তি জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকায় ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থীকে পুলিশেসোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গতকাল(সোমবার) মার্কেটিং বিভাগে এই ঘটনা ঘটে।এরসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর সর্ম্পৃক্ততাপেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।তাদের সাথে আটকশিক্ষার্থীর সাড়ে তিন লাখ টাকা ও একটি আইফোনের বিনিময়ে ভর্তির চুক্তি হয়।আটক শিক্ষার্থীর নাম জাহিদুল ইসলাম জিসান।তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিপরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। আটকের সময়তার কাছ থেকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন, মার্কেটিং বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর নকল করাকাগজপত্র ও ব্যাংকের ভুয়া রশিদ জব্দ করেবিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (সোমবার) জিসান মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হতে যায়। বিভাগেদায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে গত রবিবার (২৮জানুয়ারি) একটি ব্যাংক রশিদ দেখিয়ে রেজিস্ট্রারখাতায় নাম তুলতে বলেন। তার দেওয়া বিভাগেরআইডি নম্বর–১৮৩০৪১২০।কর্মকর্তা নাম তুলতেগেলে লক্ষ্য করেন জিসানের দেওয়া আইডিতেমুক্তিযোদ্ধা কোটায় পূর্বেই এক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েআছেন। তাছাড়া তার দেওয়া ব্যাংক রশিদের তারিখদেখেও কর্মকর্তার বিষয়টি সন্দেহ হয়। কারণ উক্তরশিদে উল্লেখিত তারিখে ওই বিভাগে কোন ভর্তিকার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। পরে বিষয়টি বিভাগেরসভাপতি অধ্যাপক সজীব কুমার ঘোষকে জানানোহয়। তিনি তাকে (জিসান) জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারকথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে তিনি অনুষদেরডিন এ.এফ.এম আওরঙ্গজেবকে জানান। তিনি(ডিন) তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডিকে অভিহিতকরেন। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাকে প্রক্টরঅফিসে নিয়ে যায়। পরে প্রক্টরিয়াল বডিরজিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে আরো চাঞ্চল্যকরতথ্য। সাড়ে তিন লাখ টাকা ও একটি আই ফোনেরবিনিময়ে জিসানকে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা ছিলবিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী জুলকার নাইন ওসাদ্দাম হোসেনের। এদের মধ্যে জুলকার ইনস্টিটিউটঅব এডুকেশন রিসার্চ (আইইআর)’র ২০১৩–১৪শিক্ষাবর্ষের ও সাদ্দাম আরবী বিভাগের একইশিক্ষাবষের্রশিক্ষার্থী। জিসানের দাখিলকৃতকাগজপত্র যাচাই বাছাই করে দেখা যায় অগ্রণীব্যাংকের রশিদ, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন, মার্কেটিং বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর জাল। পরেতাকে হাটহাজারী থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি সজীব কুমারঘোষ বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী আমার বিভাগে ভর্তিহতে আসে। এই সময় তার দেওয়া ব্যাংক রশিদ এবংকথাবার্তায় গরমিল পেলে সন্দেহ হয়। পরে তারদেওয়া আইডি যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায় ওইআইডিতে আগে থেকে ভর্তি ছিল এক শিক্ষার্থী।বিষয়টি প্রক্টরকে জানানো হলে প্রক্টরিয়াল বডিরসদস্যরা এসে তাকে নিয়ে যায়’।
ভর্তি জালিয়াতির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় সহকারীপ্রক্টর নিয়াজ মোরর্শেদ রিপন বলেন, ‘মার্কেটিংবিভাগে ভর্তি হওয়ার সময় ভুয়া কাগজপত্রসহএকজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছি। তাকে প্রক্টরঅফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় জিসানবিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর জড়িত থাকার কথাস্বীকার করেন।
এ দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন রিসার্চ (আইইআর)’র২০১৩–১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুলকার নাইন ওআরবী বিভাগের একই বর্ষের সাদ্দাম হোসেনের নামবেরিয়ে এসেছে। এই দ্ইু শিক্ষার্থীর সাথে জিসানেরসাড়ে তিন লাখ টাকা ও একটি আই ফোনের চুক্তিহওয়ার কথা স্বীকার করেছে সে।
তিনি আরো বলেন, ‘তথ্য যাচাই–বাছাই করেজালিয়াতির সাথে এই দুই শিক্ষার্থীর জড়িত থাকারপ্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।
এদিকে ভর্তি জালিয়াতির ব্যাপারে অভিযুক্ত দুইশিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদেরমুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীরবলেন, ‘ভর্তি জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকায় একশিক্ষার্থীকে থানায় পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বিষয়টা যাচাই–বাছাই করে দেখা হচ্ছে। এর সাথেসর্ম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।