আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক নিবন্ধে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা-ইউনেসকো জানিয়েছে, চলতি শতকের শেষ নাগাদ বিশ্ব থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভাষা হারিয়ে যাবে। সেই হিসেবে প্রতি ১৪ দিনে একটি করে ভাষার মৃত্যু হচ্ছে। অথচ এই প্রত্যেকটি ভাষার সঙ্গে পুরো একটি সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য জড়িত।
আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি বলছে, ৫৭৭টি ভাষা চরমভাবে বিপন্ন।
একটি ভাষাকে তখনই বিপন্ন বলা হয়, যখন বাবা-মা তাদের সন্তানদের সেটি আর শেখায় না। একইসঙ্গে ওই ভাষা যদি দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত না হয়, তবেই সেটি বিপন্ন ভাষা বিবেচিত বলে জানাচ্ছে ইউনেস্কো।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় সংস্থাটির মহাপরিচালক অড্রে অ্যাজুলাই বলেছেন, প্রতি দুই সপ্তাহে বিশ্বের বুক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একটি ভাষা। তিনি বলেন, এই ভাষার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি অংশ।
এসময় তিনি মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে নেলসন ম্যান্ডেলার একটি উক্তি উল্লেখ করেন বলেছিলেন, যখন আপনি কোনো ভাষায় কাউকে কিছু বলেন, সেটি তার মস্তিষ্কে পৌঁছায়, সে বুঝতে পারে। কিন্তু যখন তার নিজের ভাষায় বলেন, তখন তা তার হৃদয়ে পৌঁছায়।
কানাডার ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতাত্ত্বিক প্রফেসর ইওয়া সিজেকোস্কি-হিগিন্স বলেছেন, যখন একটি ভাষার মৃত্যু হয় তখন সেটি খুব বড় ক্ষতি। তিনি বলেন, একটি ভাষা মানুষ ও সংস্কৃতিকে সংজ্ঞায়িত করে।
এই ভাষাতাত্ত্বিক বলেন, ভাষা বিশ্বের জ্ঞানকে ধারণ করে। যখন একটি ভাষার মৃত্যু হয় তখন জ্ঞান, ইতিহাস ওই জনপদের সঙ্গে আমাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এদিকে দিনটি উপলক্ষে প্যারিসে সংস্থার সদর দপ্তরে আজ বুধবার একটি সংলাপ আয়োজন করা হয়েছে। যেটির শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘আমার ভাষা, আমার সম্পদ।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।