Saturday, November 7

বদলগাছীতে প্রতিবন্ধীদের নাম ভাংগিয়ে মেলা, প্রকাশে চলছে জুয়া

0

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছীতে প্রতিবন্ধীদের নাম ভাংগিয়ে মেলা নামে প্রকাশে চলছে জুয়া। মেলা বন্ধের দাবীতে জেলা প্রশাসক বরাবর এলাকাবাসী স্মারকলিপি প্রদান করার দশদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন কার্যত পদক্ষেপ গ্রহন করেনি প্রশাসন। স্মারকলিপি প্রদানের পরের দিন থেকে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের সহযোগিতায় মেলা শুরু হয় এবং প্রকাশে চালানো হচ্ছে জুয়া।

স্মারকলিপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবন্ধীদের সাহায্যের নামে উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের কামালপুর মৌজায় হাজীর মোড় নামক স্থানে শামসুল আলম খাঁন বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ইনডোর গেমস্ নামে এ মেলার আয়োজন করা হয়। আর মেলা বন্ধের দাবীতে গত ২৯ নভেম্বর বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক বরাবর এলাকার প্রায় দেড় হাজার সচেতন ব্যক্তির স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ আছে যে, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যায় ফসল, ঘরবাড়ি, গৃহপালিত পশু মারা যাওয়াসহ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সে শোক কাটিয়ে এখনো স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারেনি এলাকাবাসী। এলাকাবাসীরা চরম সংকটময় মুহুর্ত পার করছেন। গত ২৯ নভেম্বর থেকে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এছাড়া আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা এবং আসন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষারপূর্বে মেলার আয়োজন করায় শিক্ষার্থীরা পড়াশুনার দিক দিয়ে সমস্যার সম্মূখীন হবে।

মেলার আয়োজন করা হলে বিশেষ করে উঠতি বয়সি ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় আছেন। এছাড়া এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা হবে। যুব সমাজ মরণনেশা মাদকের ছোবলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যাবে।

স্বারকলিপিতে আরও উল্লেখ্য করা হয়, কিছুদিন পূর্বে উপজেলার মির্জাপুর নামক স্থানে মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মেলাকে কেন্দ্র করে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। তাছাড়াও উক্ত শামসুল আলম খাঁন নিজেও একটি হত্যা মামলার আসামী। সার্বিকদিকগুলো বিবেচনা করে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে উক্ত মেলা বন্ধের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

অথচ এখন পর্যন্ত মেলা বন্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহক করেনি বরং স্মারকলিপি প্রদানের একদিন পর থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সগযোগিতায় মেলার নামে প্রকাশ্যে চলছে লটারী, হাউজি, ডাব্বুসহ বিভিন্ন আইটিমের জুয়া। এতে প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর এক প্রকার ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ হতে এএসপি সার্কেলের (মহাদেবপুর) নেতৃত্বে প্রথম দিন জুয়া বন্ধ করা হলেও রহস্যজনক ভাবে উধ্বর্তন প্রশাসনের নির্দেশে তারাও এখন নিরব ভুমিকা পালন করছে।

এ ছাড়াও প্রতিবন্ধীদের দাবী তাদের নাম ভাংগানো হচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের নামে কেউ জুয়া চালাক সেটা তারা চায় না বলে জানিয়েছে। চারিদিকে বন্যায় মানুষ হতাশাগ্রস্থ সেখানে জুয়া চালানো হলে মানুষ সর্বশান্ত হবে। প্রতিবন্ধীরা কোন জুয়ার টাকায় সাহায্য চায় না।

বদলগাছী বঙ্গবন্ধু সরকারী কলেজের প্রভাষক মাহমুদুল হাসান হিরো বলেন, মেলা বন্ধের জন্য মানবন্ধন করতে চেয়েছিলাম কিন্তু পুলিশ প্রশাসন তা করতে দেয়নি। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে অথচ প্রায় ১০ দিন পার হয়ে গেল এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। এভাবে মেলা চলতে থাকলে এলাকা মাদকের আগ্রাসনে পরিণত হবে। উঠতি বয়সি ছেলেরা বিপথে যাবে। সন্ধ্যার পর মাইকের শব্দে ছেলেরা আর ঘরে থাকতে চায় না । এ নিয়ে অভিভাবকরা দু:চিন্তায় আছে। আমরা চাই এখন মেলাটি বন্ধ করা হোক।

স্থানীয় সাগর, আলাল হোসেন, দুলু জানান, লটারির নামে জুয়া আশে পাশের ৬/৭টি উপজেলার বিক্রি করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে এলাকাবাসি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। হাতিয়ে নেয়া টাকার মোটা অংকের একটি অংশ একটি প্রশাসনের পকেটে যাচ্ছে। এ কারণে প্রশাসন নিরব ভ‚মিকা পালন করছে।

প্রতিবন্ধী চন্চল, মিলন, মুজাহিতসহ বেশ কয়েক জন বলেন, আমাদের যদি সাহায্য করার ইচ্ছে থাকে তাহলে অনেক পদ্ধতি আছে সাহায্য করার। আসলে আমাদেও কোন সাহায্য করা হচ্ছে না। আমাদের নাম ভাংগানো হচ্ছে। তবে কতিপয় দুই একজন সুবিধাবাদী প্রতিবন্ধী এর সঙ্গে জরিত থাকতে পারে। আমরা এর প্রতিবাদ করছি। আমরা মানুষের রক্ত চোষা জুয়ার টাকার কোন সাহায্য চাইনা।

শামসুল আলম খাঁনের সাথে সেল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে মেলার পার্টানার তোরিকুল ইসলাম জানান, মেলা চালু করতে বিভিন্ন মহলে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। মেলার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে লটারি, জুয়া, ফরগুটির আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় তিনি নিউজটি না করার জন্যে বারবার অনুরোধ করেন।

বদলগাছী থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, ফরগুটি, হাউজিসহ জুয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এএসপি সার্কেল (মহাদেবপুর) আবু সালেহ জানান, জনগনের দাবি রয়েছে মেলার নামে অবৈধ্য জুয়া বন্ধ করার। এজন্যে কয়েকবার মেলার জুয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন চাপে তা পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আলী বেগ জানান, ফরগুটি, হাউজিসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়া বুধবার রাতে পুলিশ প্রশাসনের সাথে নিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অপর প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, লটারির মানে যে জুয়া চলছে তার এখন পর্যন্ত বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এ জন্যে মিডিয়াকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন। এ ছাড়াও মেলায় জুয়াসহ সকল ধরনের অবৈধ্য কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে দেয়া স্মারকলিপি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, মেলায় জুয়া খেলার সময় ইত্যে মধ্যে কয়েক জনকে আটক করা হয়েছে। আগামিতেও এই অভিযোন অব্যাহত থাকবে। অপর প্রশ্নে তিনি আরো জানান, পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে মেলা কমিটির সাথে যে সখ্যতার অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সঠিক নয়।
স্মারকলিপি পাওয়া সতত্য স্বীকার করে জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান বলেন, মেলায় যাতে অবৈধ্য কোন প্রকার কার্যক্রম এবং জুয়া চালাতে না পারে সে জন্যে প্রশাসনের নজর রয়েছে। দ্রæত অবৈধ্য সকল প্রকার কার্যক্রম এবং জুয়া বন্ধা করা হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.