Wednesday, September 30

আন্তকোন্দলের কারনে চলচ্চিত্র শিল্পের এফডিসি জৌলুস হারাচ্ছে

0

ব্যক্তিস্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্য শিল্পীদের হয়রানি, মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো ও সমালোচনাকারীদের সদস্যপদ বাতিলসহ নানা অভিযোগে অভিনেতা জায়েদ খানকে সম্প্রতি বয়কট করেছে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ১৮টি সংগঠন। এমনকি মিশা-জায়েদের পদত্যাগ চেয়ে রাস্তায় নেমে আসতেও বাধ্য হন শিল্পী সমিতির ভোটাধিকার হারানো ১৮৪ জন শিল্পী। ‘যে নেতা শিল্পীদের সম্মান করে না, তাকে আমরা চাই না’ এমন স্লোগান দিয়ে ভোটাধিকার ফেরতের দাবির পাশাপাশি মিশা-জায়েদের পদত্যাগেরও দাবি তোলেন তারা। অন্যদিকে, মিশা-জায়েদকে সমর্থন দিয়ে চলচ্চিত্রের স্বার্থে সব রকম বিভেদ ভুলে সবাইকে মিলেমিশে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন, অঞ্জনা, সাদেক বাচ্চুসহ অন্যরা। তবে চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিল্পীরা এখন পদ-পদবি ইস্যুতে মারামারি, হাতাহাতি ও কাদা ছোড়াছুড়িতে যতটা পারদর্শিতা দেখাচ্ছে, ততটা পারঙ্গমতা দেখা যাচ্ছে না এর সৃজনশীলতা কিংবা উন্নয়নের ক্ষেত্রে।

কিন্তু এই সংকটের সামধান কী, জানতে চাইলে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা যে লেভেলে কাজ করেছি, সেই লেভেলে তো কাজ হচ্ছে না এখন। …কটা টাকার জন্য তো আমি আমার অর্জনকে বিসর্জন দিতে পারি না। নায়ক রিয়াজ বলেন, কাদা ছোড়াছুড়ির কারণে চলচ্চিত্রের তো ক্ষতি হচ্ছেই। সেটা নিয়ে যারা নেতা-নেত্রী আছেন, তারাই ভালো বুঝবেন। একেক অভিনেতা-অভিনেত্রী একেক সময় এমন হাস্যকর কথা বলছেন, তা নিয়ে মন্তব্য করারও রুচি হয় না। চিত্রনায়িকা পপি বলেন, এই এফডিসি প্রতিষ্ঠা করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অথচ সেখানে আজ অযোগ্য লোকের নেতৃত্বে জিম্মি হয়ে আছে চলচ্চিত্র শিল্পী ও তাদের সমিতি। একজন শিল্পীর হওয়া উচিত নরম মনের। অথচ এখানে দেখা যাচ্ছে পাষণ্ডদের রাজত্ব আর নোংরামি।
অন্যদিকে, চলচ্চিত্র অঙ্গনে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধে কোনো পদক্ষেপ আছে কিনা জানতে চাইলে এ বিষয়ে কোনো ‘মন্তব্য’ করবেন না জানিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, কাদা ছোড়াছুড়ি শব্দটা শুনতে অসম্মানজনক। চলচ্চিত্র শিল্পে কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি নেই; বরং বলা ভালো, এ শিল্পের অবস্থা ‘নাজুক’। এছাড়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক অভিনেতা জায়েদ খান বলেন, আমাদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছিল। এখন আর কোনো ভুল বোঝাবুঝি নেই। সব মিটে গেছে। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানকে আমরা কাজের মধ্য দিয়ে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাব। প্রধানমন্ত্রীও আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এফডিসির অপরাজনীতি অচিরেই বন্ধ করা উচিত। এসব অপরাজনীতির কারণে আজ ‘কোমায়’ যেতে বসেছে বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনাপ্রাপ্ত সুখ্যাত এই প্রতিষ্ঠান।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.