‘আমার রাজনীতি হচ্ছে এ দেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের জন্য। আমি তেলা মাথায় তেল দিতে আসিনি। আমি সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে এসেছি, যা আমার পিতা চেয়েছিলেন। ইতিমধ্যে আমাদের মহিলা শ্রমিকদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ, ডরমিটরি নির্মাণ এবং তাদের জন্য শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, হাসপাতাল, চিকিৎসার ব্যবস্থা, নানা রকমের সুযোগ-সুবিধা, যতরকমের যা দরকার সেগুলি আমরা করে দিচ্ছি। বন্দ শিল্প কল-কারখানা আমরা চালু করছি। আমরা শ্রমনীতি-২০১২ প্রণয়ন করেছি, বাংলাদেশ শ্রমবিধিমালা-২০১৫ প্রণয়ন করেছি।’
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে রাজনীতিতে এসেছেন। তেলা মাথায় তেল দিতে আসেননি। ‘শিল্প কল-কারাখানাগুলো যাতে উন্নত হয়, কারণ কয়েকটা অ্যাকসিডেন্ট ঘটে গেছে, যার ফলে আমাদের ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছে। তা ছাড়া অনেক শ্রমিকের জীবন গেছে। তাদের প্রত্যেকের চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং সাহায্য করেছি। অবশ্য বাংলাদেশে সাহায্য করলে সবাই সব সময় স্বীকার করে না, এটা একটা অভ্যাস আছে। তাতে কিছু আসে যায় না। কিন্তু আমার বিবেক পরিষ্কার, আমি তাদের সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করেছি, যাতে তাদের পরিবারগুলি সুস্থভাবে চলতে পারে।’
শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কারখানা আপনাদের রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা করে, আপনাকে ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করে; সেই কারখানা যাতে ঠিকমতো চলে সেদিকে যেমন দৃষ্টি দিতে হবে, সেখানে যাতে কোনো অশান্তি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য আমি আমার শ্রমজীবী ভাই-বোনদের অনুরোধ করব। একটা ভরসা রাখবেন, আপনাদের কোনো অসুবিধা হলে আমি তো আছি। কারণ আমার কাজই তো তাই, আমি তো নিজের ভাগ্য করতে আসিনি। আমি আপনাদের ভাগ্য করতে এসেছি।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘মালিকদের আমার অনুরোধ, যে শ্রমিকরা শ্রম দিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আপনার জন্য উৎপাদন করে, আপনি ব্যবসা করেন, অর্থ উপার্জন করেন, আপনারা ভালো থাকেন, আপনাদের পরিবার ভালো থাকে। সেই শ্রমজীবী মানুষের প্রতিও আপনাদের আন্তরিক হতে হবে। তাদের ওপরও আপনাদের কর্তব্য যেন কোনো কমতি না হয়, সেটা দেখতে হবে।’