কোভিড ১৯ আক্রান্তের দিক থেকে বাংলাদেশ চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে

0

মো. আলী আশরাফ মোল্লা: বিশ্বের আতংকের নাম হচ্ছে করোনা ভাইরাস। পুরো বিশ্বজুড়ে এই মহামারীর কারনে পুরোই তটস্থ, অর্থনীতি বিপর্যস্থ। মানুষ জন গৃহবন্ধী। মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বেচেঁ থাকার সংগ্রামে নিত্য দিন লড়াই করে পুরো বিশ্বের মানুষ। যেখানে উন্নত দেশগুলিই এই মহামারী কে মোকাবিলা করতে পুরোই হিমশিম খাচ্ছে সেখানে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে বড় ধরনের ধাক্কা খাচ্ছে। আমার দেশে প্রতি নিয়তই করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের সংখ্যা ক্রমাগত ভাবেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা আমাদের কে আতংক আর ভয়াবহতার কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। এখন আক্রান্তের দিক থেকে কাউকেই ছাড় দিচ্ছ না এই ভাইরাস! সম্প্রতি এই মরণ ব্যাধি করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে অনেক ভি আই পি ব্যক্তিবর্গও সংক্রামিত হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে দুইজন মন্ত্রী এবং সাতজন সংসদ সদস্যসহ অনেক ভি আই পি ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন যা আমাদের রীতিমতো ঘাবড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ খুবই উদ্বিগ্ন আর আতংকের মধ্যে দিয়েই দিনাতিপাত করছে। করোনার থেকে বাচার আকুতিই এখন আমাদের নিত্য দিনের চাওয়া। বেচে থাকাটাই এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া এবং পাওয়া।

বিশ্বের অন্যতম বড় দেশ চীনে প্রথম এই করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয় গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর। পর্যায় ক্রমে এটি বিশ্বের সব প্রায় দেশেই ছড়িয়ে পড়ে। চীনের উদাই প্রদেশের উহান শহরে সনাক্ত হওয়ার পর থেকে গতকাল ১৩ জুন পর্যন্ত ১৫০ কোটি মানুষের দেশে ১৬৬ দিনের মাথায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়াঁয় ৮৩০৭৫ জন। আর মৃত্যু হয় ৪৬৩৪ জন। আর আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে চীনের থেকে ৭৯ দিন পরে ৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত রোগী প্রথম সনাক্ত হয়। গতকাল ১৩ জুন পর্যন্ত আক্রান্ত হওয়ার ৯৭ তম দিনে ১৬ কোটি মানুষের দেশে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়াঁয় ৮৪৩৭৯ জনে। যা আক্রান্তের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাশীল দেশ চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। যা আমাদের কে বিস্মিত করে। আর আমাদের এই ১৬ কোটি মানুষের বসবাসের দেশে গতকাল ১৩ জুন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১৩৯ জন। বিশ্বের আক্রান্তের দিক থেকে বাংলাদেশ ১৮ তম নাম্ভারে অবস্থান করছে।

আমাদের দেশে ক্রমাগত ভাবেই সংক্রমনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়াই আমরা চরম ভাবে বিপদ সংকুল দিন পার করছি। আমাদের দেশে মোট যা মৃত্যু বরণ করেছে তার অর্ধেক ই হয়েছে গত দুই সপ্তাহে। ৩১ মে সারা দেশে লক ডাউন খুলে দেওয়াই তার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। ফলশ্রুতিতে আবারও বিভিন্ন এলাকায় অঞ্চল ভিত্তিক লক ডাউন করার ব্যাপারে জোরদার করা হয়। এখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় অঞ্চল ভেদে লক ডাউন শুরু হয়েছে। আর এই লক ডাউন মেনে চলাই হচ্ছে আমাদের জন্য উত্তম। সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই রক্ষা করতে হবে। হাট বাজার গণপরিবহন যথা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। নিজ এবং পরিবারের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে কিছু অসুবিধা মেনে নিয়েই আপনাকে চলতে হবে। যথা সম্ভব আমাদেরকে ঘরে থাকতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত বাইরে বের হবেন না। বাইরে বের হতে হলে অবশ্যই মাক্স ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

লেখকঃ কলামিস্ট,সংগঠক এবং আবৃত্তিকর্মী।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.