Thursday, September 10

৩ বছর কারাভোগের পর মুক্তি
ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুদকের কঠিন বিচার দাবি জাহালমের

0

সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের মামলায় গ্রেফতারের তিন বছর পর রোববার মধ্যরাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন নির্দোষ পাটকল শ্রমিক জাহালম ওরফে জানে আলম (২৮)। এ সময় তাকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভাই শাহানূর মিয়া।কারাগারের ফটক থেকে মুক্ত ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রাতেই টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন ভাই শাহনুর।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান, এ কারাগারে বন্দী জাহালম ওরফে জানে আলমকে হাইকোর্টের নির্দেশে রোববার রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মুক্তি দেয়া হয়।

এর আগে আদালতের দেয়া মুক্তির আদেশ মহাকারা পরিদর্শকের দফতরের মাধ্যমে রাত ১২টা ৫ মিনিটে কাশিমপুরের কারাগারে পৌঁছে। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার জাহালমকে মুক্তির ওই আদেশ দেন।

কারামুক্তির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহালম বলেন, ‘কারাগারে অনেক কষ্টে আমার দিন কেটেছে, মানুষের কাপড় ধুয়ে, কাজ করে দিয়ে ভালো খাবার খাইছি। আমার জীবন থেকে তিনটি বছর চলে গেছে। আমি রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষতিপূরণ চাই।’

জাহালম বলেন, ‘জজ সাহেবকে বলেছিলাম আমি এ মামলার আসামি না। আমি আবু সালেক না। আমি জাহালম। কিন্তু তিনি আমার কথা বিশ্বাস করেননি। সাক্ষীরা আমাকে আবু সালেক বলে সাক্ষ্য দিয়েছে। কিন্তু আমি তো এ মামলার কিছুই জানি না। মাসে পাঁচ থেকে ছয়বার করে আদালতে যাইতাম। অনেক কষ্ট লাগতো। কাঁদতামও। কাশিমপুর থেকে প্রতিনিয়ত যাওয়া খুব কষ্ট লাগতো।’

প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু দুদকের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে টাঙ্গাইলের জাহালমকে।

দুদুকের ভুলে জাহালম বিনা কারণে তিন বছর জেল খেটেছেন। তাই দুদকের কঠিন বিচার দাবি করে জাহালম বলেন, ‘সঠিক তদন্ত করে যেন আসামি ধরা হয়। জাহালম আরও বলেন, ‘আমি জীবনে চিন্তাও করতে পারিনি যে বের হতে পারব। আমি মানবাধিকার কমিশন ও গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানাই।
এসময় তার ভাই শাহনুর মিয়া বলেন, ‘যাদের ভুলের কারণে তার ভাই জেল খেটেছে তাদের বিচার এবং ক্ষতিপূরণ চাই।

টাকা জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের মামলায় তাকে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয়। এরপর ওই বছরের ২৭ মে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে এ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তিনি টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ধুবুরিয়া এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.