Saturday, August 15

গবাদিপশুর ‘লাম্পি স্কিন’ রোগ; দেখা নেই প্রাণীসম্পদ বিভাগের

0

নুরনবী সরকার, লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে হাজার হাজার গবাদিপশু ক্যাপরিপক্স ভাইরাসের মধ্যমে ‘লাম্পি স্কিন’ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। রোগটির সুনির্দিষ্ট কোনও প্রতিষেধক নেই। এরই মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গরু মারা যাওয়ার এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে। কোরবানির ঈদের আগে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা। রোগটি ব্যাপক আকার ধারণ করলেও মাঠে দেখা যাচ্ছে না প্রাণী সম্পদ বিভাগের লোকজদের। ফলে গ্রামের কিছু হাতুরি ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। এতে গরু সুস্থ না হয়ে উল্টো আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

প্রাণীসম্পদ বিভাগের লোকজন জানান, ‘লাম্পি স্কিন’ রোগের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। এর সুনির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা নেই। লক্ষণ দেখে আক্রান্ত পশুকে পেনিসিলিন, এন্টি হিস্টামিন এবং জ্বর হলে প্যারাসিটামল দিলে কিছুটা উপকার পাওয়া যায়। এন্টিসেপটিক হিসেবে খাবার সোডা পরিমাণ মতো পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত পশুকে খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে খামারিদের।

সড়ে জমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাড়িতে এই রোগ দেখা দিয়েছে। ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের পর গ্রাম। গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছে মানুষ। করোনা পরিস্থিতিতে টাকা পয়সা হাতে না থাকায় আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পশুর মালিকদের।
হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিন গড্ডিমারী গ্রামের সুফিয়া বেগম বলেন, তার দুই টি গরুসহ এলাকার অনেক গরু এ রোগে আক্রান্ত। এছাড়া এই গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে ভাইরাসটি হানা দিচ্ছে।

গরু খামারীদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের লোকজনকে খবর দিয়েও পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে গ্রামের হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।’
খামারীরা জানান, কোনও বাড়ি বাদ নেই। সবার গরুর অসুখ হয়েছে। উপসর্গের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রথমে গরুর জ্বর হয়, এর পর গা গুটি গুটি হয়ে ফুলে যায়। ঘা হয়ে পেকে ফেটে গিয়ে পুঁজ বের হয়। কাঁপুনিও থাকে।’

লালমনিরহাট প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান জানান, এবার নতুন করে ‘লাম্পি স্কিন’ রোগটি দেখা দিয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে এই ক্যাপরিপক্স ভাইরাসটি গ্রাম অ লে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অসুখটিকে ‘লাম্পি স্কিন’ ডিজিস বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই রোগে আক্রান্ত পশুর চামড়া ফুলে গোটা গোটা হচ্ছে। পরে তা ঘায়ে পরিণত হয়ে ফেটে রস বের হয়। এমনকি পশুর জ্বর হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। তবে জনবল সংকট থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। আক্রান্ত পশুর লক্ষণ দেখে চিকিৎসা দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

নুরনবী সরকার, ০১৭৩৭-৩২১৮০১

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.