Wednesday, August 12

গ্রেপ্তারকৃতরা কেউই শিল্পী বা মডেলই নয়:শহীদুজ্জামান সেলিম

0

‘ওরা কিসের মডেল! কিসের অভিনয়শিল্পী। এত বছরের অভিনয়জীবন, কারও নামই তো শুনলাম না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ—কাউকে মডেল ও অভিনয়শিল্পী হিসেবে প্রচারের আগে অবশ্যই খতিয়ে দেখবেন। সমাজে এই ধরনের অপকর্মের কারণে সেনসেশন তৈরি হয়।

দেশ–বিদেশের মানুষের কাছে সত্যিকারের শিল্পী ও মডেল সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবমূর্তি হয়।’ ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী ও অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম।

মডেল ও অভিনয়শিল্পী পরিচয়ধারী দুই নারী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে গত রোববার রাতে ঢাকার বারিধারা ও মোহাম্মদপুর থেকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।গতকাল সোমবার মাদক মামলায় পিয়াসা ও মৌকে তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত গতকাল এ আদেশ দেন। মডেল ও অভিনয়শিল্পী হিসেবে তাঁদের প্রচারের কারণে বিনোদন অঙ্গনের বেশির ভাগ সদস্যের মধ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সালাহউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুজনের কাউকে আমরা কখনোই মডেল বা অভিনেত্রী হিসেবে দেখিনি। চিনিও না। শিল্পী সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও কথা হয়েছে, তারাও বলেছে, এদের চেনে না, জানেও না।

বাংলাদেশের মানুষ এই শিল্পাঙ্গনের মানুষকে অনেক সম্মান করে। এটা অর্জন করতে অনেক বছর ধরে সময় লেগে যায়। গুটিকয়ের অপকর্মের দায় যেন বিনোদন অঙ্গনের সবার ওপর না পড়ে।’

শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘এদের আমরা একদমই চিনি না। এরা কী কাজ করেছে, কখনো সেটাও জানি না। এখানে আমাদের একটা বক্তব্য, সব শিল্পীই শিল্পী নয়, সব মডেলই মডেল নয়।তিনি আরো বলেন, ‘তার পরিচয় কী? মডেল। সে কি মডেলিং করেছে, কেউ কিন্তু জানি না। তার পরিচয় অভিনয়শিল্পী, কিন্তু সে কিসে অভিনয় করেছে, কেউ বলতে পারবে না।

একজন মানুষকে হুটহাট অভিনয়শিল্পী বা মডেল বলাটা সত্যিকারের শিল্পী ও মডেলদের অপমান। এমন ঘটনার কারণে আমাদের আগেও বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়, এখনো হচ্ছে। সংবাদ পরিবেশন এবং গ্রেপ্তারের সময় কেউ যদি অভিনয়শিল্পী বা মডেল দাবি করে, তাহলে কী করেছে তা জানতে চাওয়া অবশ্যই উচিত। সত্যিকারে মডেল ও অভিনয়শিল্পীকে প্রমাণ করারও তো কিছু নাই, তারা সবার কাছে পরিচিত। অখ্যাতরা অপরাধ করে ইন্ডাস্ট্রির সুনাম নষ্ট করছে, এটা তো মানা যায় না।’

শহীদুজ্জামান সেলিম জানালেন, তাঁদের কয়েকটি সংগঠন রয়েছে। অভিনয়শিল্পী, মডেল,
অন্যদিকে ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি ও অভিনয়শিল্পী সালাহউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘আমাদের সময়ে অনলাইন টিভি, ইউটিউব, ফেসবুক এসবের ছড়াছড়ি ছিল না। এক্সপোজারের একমাত্র উপায় ছিল টেলিভিশন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইনে এখন কোথা থেকে কে কী বানাচ্ছে—লাইকি, টিকটক আরও কী কী অ্যাপ যেন রয়েছে।

এসবের মাধ্যমে অনেকে নিজেদের তারকা ভাবা শুরু করছে। এদের নিয়ে আবার বিভিন্ন পণ্য প্রতিষ্ঠানের মাতামাতির শেষ নাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যারা খারাপ কাজে লিপ্ত থাকবে, তাদের ধরবে, সাংবাদিকেরা তাদের নিয়ে লিখবে—কিন্তু পরিচয় প্রকাশের আগে একটুখানি খোঁজখবর ও যাচাই–বাছাই নিয়ে দেওয়া উচিত।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.