জাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ

0

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) তিন দফা দাবিতে পূর্ব ঘোষিত প্রশাসনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচি আজও পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা। গতকালও অবরোধ চলেছে কিন্তুু প্রশাসন তাদের দাবি মেনে না নেয়ায় আজ ও কাল বৃহস্পতিবারও অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সকাল সাতটা থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এতে কয়েকজন শিক্ষকসহ ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

এক সংবাদ বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট থেকে নির্বাচিত ১৯ জন সিনেট সদস্য।

বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান মেগা প্রকল্প সম্পর্কে সিন্ডিকেট ও সিনেট সভায় উপস্থাপন করা হয়নি এবং তাদের কোনো মতামত গ্রহণ করা হয়নি। মহাপরিকল্পনায় যথাযথ ধাপ অনুসরণ করা হয়নি এবং সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়নি।
তারা বলেন, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের কারও এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের যোগ্যতা নেই। উপাচার্য তার ব্যক্তিগত সচিবসহ অনুগত ও অদক্ষ ব্যক্তিদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে রেখেছেন। বিবৃতিতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি করেন এই সিনেটররা।

প্রসঙ্গত বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান মেগা প্রকল্পের মাস্টার প্ল্যান অস্বচ্ছ ও অপূর্ণাঙ্গ বলে দাবি করে আন্দোলন করে আসছেন একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থী। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে তিন দফা দাবিতে মঙ্গলবার সারা দিন দুটি প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন তারা। বিকেল পাঁচটার দিকে আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে আজ বুধবার অবরোধ ঘোষণা দেন।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এদিন কোনো দাফতরিক কাজ সম্পাদন হয়নি। আন্দোলনকারীদের পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী অবরোধ কর্মসূচি পালন শেষে আজ ও আগামীকাল অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি, অপরিকল্পিত মাস্টার প্লানের অধীনে তড়িঘড়ি করে ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের’ কাজ শুরু করা হয়েছে এবং অপরিকল্পিতভাবে যে কয়েকটি স্থাপনার কাজ শুরু হয়েছে তাতেও ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জেনেছেন। এজন্য প্রকল্পে অপরিকল্পনা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং তিন দফা দাবি আদায়ে তারা এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন।

দাবিগুলো হলো—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের তিনটি হল স্থানান্তর করে নতুন জায়গায় দ্রুত কাজ শুরু করা, মেগাপ্রজেক্টের টাকার দুর্নীতির ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা, টেন্ডারের শিডিউল ছিনতাইকারীদের শাস্তি প্রদান ও মেগাপ্রজেক্টের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সকল ব্যয়ের হিসেব জনসম্মুখে প্রকাশ করা এবং মেগাপ্রজেক্টের বাকি স্থাপনার কাজ স্থগিত রেখে সকল স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে মাস্টারপ্লান পুনর্বিন্যাস করা।
এদিকে অবরোধ কর্মসূচির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বার্তা পাওয়া যায়নি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.