ডাঃ জাফরউল্লাহ’র করোনা টেস্ট কিট নিয়ে মিউজিকাল চেয়ার খেলা বন্ধ করতে হবে – ডাঃ শাহাদাত

0
সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে যৌক্তিক কারণেই বন্ধ আছে “কনটামিনেশান হটস্পট”  ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বার। এতে বিপাকে পড়েছেন অনেক সাধারণ জনগণ, ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। তবে, করোনা ভাইরাসের কারণে এই লকডাউনের
মাঝেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুক লাইভে এসে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে দেশের জনগণের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সভাপতি  ডাঃ শাহাদাত হোসেন। উল্লেখ্য, এই রমজান মাসেও তিনি এই সেবা চালিয়ে যাবেন রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতি বার রাত ১০টা থেক ১১.৩০ পর্যন্ত।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া লাইভ অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি টেলিমেডিসিন চিকিৎসা শুরু করার আগে দেশ ও জনগণের প্রতি একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৫২ জন আর বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন মাত্র ১৩১ জন। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে করোনার হটস্পট যুক্তরাষ্ট,স্পেন কিংবা ইতালিতেও মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে সুস্থতার সংখ্যা অনেক বেশী। তাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে টেস্ট কিট থাকার ফলে তারা সহজেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিহ্নিত করতে পারছেন।

এখন আমাদের মূল যে জায়গায় জোর দিতে চাচ্ছি সেটি হলো টেস্টিং কিট। আমরা সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেটি দেখতে পাচ্ছি সেটি হলো ডঃ জাফরুল্লাহর গণস্বাস্থ কেন্দ্রের কিট প্রসঙ্গ নিয়ে। আমাদের যে পরিসংখ্যান আছে তাতে দেখা যাচ্ছে আজকের দিন পর্যন্ত টেস্ট কিট মজুদ আছে ৪৮ হাজার থেকে ৫০ হাজার। আমাদের প্রতিদিনের যে ইনভেস্টিগেশন এর পরিমাণ সেটি হচ্ছে ৩-৪ হাজার। কিন্তু আমাদের হওয়া উচিত ১৫-২০ হাজার। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ
নেপাল,ভুটান কিংবা মালদ্বীপ যেখানে প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যার বিপরীতে তারা টেস্ট করিয়েছে ১০ হাজার কিংবা ১১ হাজার। কিন্তু আমাদের দেশে প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যার বিপরীতে টেস্ট করা হচ্ছে মাত্র ১৯৮-২০০ জন! এছাড়াও ইতালি, স্পেন সেখানে প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যার বিপরীতে ইনভেস্টিগেশন এর পরিমাণ ২২-২৪ হাজার। তাই আমি বলতে চাই,আমাদের অনেক অনেক ইনভেস্টিগেশন কিট প্রয়োজন।

আমরা যদি অন্য দেশের মতো প্রতিদিন ১০-১৫ হাজার ইনভেস্টিগেশন সারা বাংলাদেশে করতে চাই তাহলে আমাদের কিট ৩-৪ দিনেই শেষ হয়ে যাবে। সামনে চীন থেকে আরো টেস্ট কিট আসতে পারে। কিন্তু মূল বিষয় হলো, যেখানে আমাদের দেশের ডাঃ জাফরুল্লাহর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র যেখানে এগিয়ে এসেছে, আমরা তাদেরকে উৎসাহ না জানিয়ে বরং তাদের কিট গুলো নিয়ে মিউজিকাল চেয়ার খেলছি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যেখানে থেকে প্রচুর দুর্নীতির সংবাদ আমরা পাই, তারা হয়তোবা দুর্নীতি করার জন্যই বিদেশি কিটকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। আমি বলতে চাই ডাঃ জাফরুল্লাহর মতো দেশপ্রেমিক মানুষকে, তার আবিস্কারকে, প্রাধান্য দেওয়া উচিত । শুধুমাত্র ভিন্নমতের রাজনীতি করেন বলেই তার প্রচেষ্টাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে – এটিই একটি মূল কারণ বলে আমি মনে করি। আরেকটি ব্যাপার হতে পারে, যদি তারা বলতে চায় যে এটি সাইন্টিফিক্যালি অনুমদীত নয়, তাহলে এতোদিন ধরে যে তিনি প্রচারণা করলেন তখন কেনো বললেননা যে এ কিট আমরা নিবো না। আসলে এসময়ে আমাদের যেখানে সব রাজনৈতিক দল মত নির্বিশেষে সবাই যে ঐক্যের কথা বলছি সেটি বাস্তবে আমরা করতে পারিনি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.