Tuesday, July 28

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ভারত: প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ

0

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরের সেমিফাইনালে উঠলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। রোববার টুর্নামেন্টের এগারতম এবং ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টিম ইন্ডিয়া ৮ উইকেটে হারিয়েছে প্রোটিয়াদের। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৩৩ বল হাতে রেখে ১৯১ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ৭২ বল হাতে রেখে ২ উইকেটে ১৯৩ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কোহলির দল। এই জয়ে ৩ খেলায় ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ভারত। ৩ খেলায় ২ পয়েন্ট থাকায় গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমিফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ।
দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯১ রানের জবাবে জয়ের জন্য ১৯২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা সর্তকতার সাথেই করেন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। কিছুক্ষণ বাদে দু’টি ছক্কায় মারমুখী হবার ইঙ্গিত দু’জনই। ষষ্ঠ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার মরনে মরকেলের উপর চড়াও হতে গিয়ে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনেন রোহিত। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ১টি করে চার-ছক্কায় ২০ বলে ১২ রান করে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
এরপর ক্রিজে ধাওয়ানের সঙ্গী হন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। আর এই জুটিতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিজেদের দখলে পুরোপুরি নিয়ে নেয় ভারত। কারন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের বিপক্ষে রানের ফুলঝুড়ি ফুটিয়েছেন তারা। ১৪৮ বলে ১২৮ রানের জুটি গড়েন তারা। দু’জনই তুলে নেন হাফ-সেঞ্চুরি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৯তম হাফ-সেঞ্চুরি পাওয়া ইনিংসে ৭৮ রানে থামেন প্রথম দুই ম্যাচে ৬৮ ও ১২৫ রানের দু’টি ইনিংস খেলা ধাওয়ান। ৮৩ বলে ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান ধাওয়ান। আর দ্বিতীয় উইকেটে কোহলির সাথে এই নিয়ে পঞ্চমবারের সেঞ্চুরির জুটি গড়েন ধাওয়ান।
ধাওয়ান ফিরে যাবার পর ভারতের জয় নিশ্চিত করতে মোটেও সমস্যা হয়নি কোহলি ও যুবরাজের। ৪৭ বল মোকাবেলা করে অবিচ্ছিন্ন ৪২ রানের জুটি গড়ে ভারতকে সেমির টিকিট এনে দেন কোহলি-যুবরাজ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪১তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০১ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন কোহলি। ১টি করে চার ও ছক্কায় ২৫ বলে ২৩ রান তুলে অপরাজিত থাকেন যুবরাজ। ম্যাচের সেরা হয়েছেন ভারতের বুমরাহ।
এর আগে, কেনিংটন ওভালে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং-এ নেমে দুর্দান্ত শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই ওপেনার কুইনন্টন ডি কক ও হাশিম আমলা ১০৫ বল মোকাবেলা করেন ৭৬ রানের জুটি গড়েন। প্রথম দু’ম্যাচ একাদশের বাইরে থাকা অফ-স্পিনার রবীচন্দ্রন অশ্বিন ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন। ৫৪ বলে ৩৫ রান করা আমলা শিকার হন অশ্বিনের।
আমলা ফিরে যাবার পর দক্ষিণ আফ্রিকার রানের চাকা সচল রেখেছিলেন ডি কক ও ফাফ ডু-প্লেসিস। ভারতীয় বোলারদের ওপর চড়াও মেজাজে খেলতে থাকেন তারা। এরমাঝে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৪তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন ডি কক। অর্ধশতকের পর ডি ককের উইকেট উপড়ে ফেলেন ভারতের বাঁ-হাতি স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা। ফলে ৪টি চারে ৭২ বলে ডি ককের ৫৩ রানের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।
এরপর বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন ডু-প্লেসিস ও অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। কিš‘ সেটি হয়নি ভারতীয় ফিল্ডারদের দক্ষতায়। ডি ভিলিয়ার্সকে রান আউটের পর ডেভিড মিলারকেও একই পরিকল্পনায় ফেরান হার্ডিক পান্ডে ও জসপ্রিত বুমরাহ। ডি ভিলিয়ার্স ১৬ ও মিলার ১ রানে ফিরেন। ফলে ১৪২ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় প্রোটিয়ারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেন ভারতের তিন বোলার ভুবেনশ্বর কুমার-বুমরাহ ও পান্ডে। ডু-প্লেসিসকে ৩৬ রানে থামিয়ে ভারতীয় বোলারদের জ্বলে উঠার পথ দেখান পান্ডে। তাই ১৫৭ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডু-প্লেসিস বিদায়ের পর ১৯১ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ পাঁচ উইকেটের মধ্যে ৪টি ভাগাভাগি করে নিয়েছেন ভুবেনশ্বর ও বুমরাহ। তাই শেষ পর্যন্ত ২০ রানে অপরাজিত ছিলেন জেপি ডুমিনি। ভারতের ভুবেনশ্বর ও বুমরাহ ২টি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
দক্ষিণ আফ্রিকা : ১৯১/১০, ৪৪.৩ ওভার (ডি কক ৫৩, ডু-প্লেসিস ৩৬, ভুবেনশ্বর ২/২৩)।
ভারত : ১৯৩/২, ৩৮ ওভার (ধাওয়ান ৭৮, কোহলি ৭৬*, তাহির ১/৩৭)।
ফল : ভারত ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : জসপ্রিত বুমরাহ (ভারত)।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.