চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক)র অভিজানে ১২০০মেট্রিক টন ক্রুড অয়েলের হদিস না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার আনুমানিক মুল্য ১৪ কোটি টাকারও উপরে।
দুদকের তথ্য মতে, অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা ‘নরডিক স্কিয়ার’ ও ‘নরডিক ফ্রিডম’ নামের দুটি জাহাজ থেকে ক্রুড অয়েল খালাসের সময় স্বাভাবিক ওশান লস বাদ দিয়ে নেট শর্ট লেন্ডিংয়ের বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেন দুদকের টিমের সদস্যরা। এ সময় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
পতেঙ্গা ডলফিন জেটি থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির শোর ট্যাংকে তেল নেওয়ার সময় শর্ট লেন্ডিংয়ের (তেল কমে যাওয়া) ঘটনায় তেলের কোয়ান্টিফিকেশন, যৌথ সার্ভে প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমা বন্দর থেকে ৯৯ হাজার ৮৯৩ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘নরডিক ফ্রিডম’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রামের কুতুবদিয়ায় বহির্নোঙরে পৌঁছায়। এর আগে একই বছরের ২৪ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৪১ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘নরডিক স্কিয়ার’ নামের আরেকটি জাহাজ বাংলাদেশে আসে।পরে লাইটারেজ জাহাজে করে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা ডলফিন জেটি থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল খালাসে প্রায় পৌনে ১৪ কোটি টাকার তেল কমেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারীর কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ফ্লো মিটার সঠিক ভাবে ব্যবহার না করায় প্রচুর তেল চুরি হয়ে যায়। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারায়।
দুদকের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত রেকর্ডপত্রের আলোকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে কমিশন বরাবর দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানান দুদকের এই কর্মকর্তা।
এই বিষয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারীর ব্যবস্হাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাতকে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।