Saturday, November 7

“পতাকার মাধ্যমে বিজয়ের আভা বিলানো ও দেশ ভ্রমণই যাদের নেশা…”

0

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, পত্নীতলা (নওগাঁ) থেকে: নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা সদর নজিপুর বাসস্ট্যান্ড। ১৩ ডিসেম্বর বুধবার বিকেল পৌনে ৪ টা বাজে ঘড়িতে তখন। পৌর শহরের চৌরাস্তা জামে মসজিদের উত্তর পাশে যেতেই চোখে পড়ল এক যুবক পতাকা সারি সারি লাঠিতে বেঁধে রেখে উড়াচ্ছেন ও মুখে শোনা যাচ্ছে- “বিজয়ের পতাকা নিবেন… পতাকা…! ছোট-বড় নানা রকম পতাকা….”

আর মাত্র দুই দিন বাঁকি। আগামী শনিবার মহান বিজয় দিবস- ২০১৭ ইং বাঙালির গৌরবের দিন। এ দিনে পূর্ণ হবে ৪৭ তম বিজয় দিবস। কথা হলো ভ্রাম্যমাণ পতাকা বিক্রেতা যুবক মিন্টু (২৮) সাথে। ক্যামারায় ছবি তুলতেই বলে উঠলেন সাংবাদিক ভাই- গাজীপুরে বাড়ি আমার। এ পতাকা বিক্রয়ে লাভ বড় কথা নয়। বছরে বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৫ দিনের মত এ মৌসুমে পতাকা বিক্রয়ের পাশাপাশি দেশের নানা এলাকা ঘুরে দেখা যায় । ১৯৭১ সালের যাদের রক্তের বিনিময়ে এ বিজয় আমরা পেয়েছি, তাদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আগামী প্রজন্মের শিশুরা এ পতাকা সম্পর্কে জানানোর জন্যই এ পতাকা বিক্রির মূল উদ্দেশ্য।

কথা হলো, আরো এক তরুণ পতাকা বিক্রেতা মেহেদি হাসান (২২) এর সাথে নজিপুর ধামইর রোডে। মেহেদি পতাকা বিক্রেতার জন্য নজিপুর আসছেন একমাত্র উত্তর বঙ্গ ঘুরে দেখার পাশাপাশি পতাকা বিক্রয়ের জন্যই। মেহেদি জানায়, আমি একজন ছাত্র। এবার ডিগ্রি প্রথম বর্ষে অধ্যয়ণরত। তার অভাবের সংসারের কারণে সে ইলেকট্রনিক মেকানিক কাজের পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। বিজয় দিবস উপলক্ষে এই বারই প্রথম সে পতাকা বিক্রয় করার জন্য দেশ ঘুরে দেখার সুযোগ নিয়েছেন।

পতাকা বিক্রতারা জানায়, শিশুদের লাল- সবুজের মাথার ফিতা প্রতিটি ১০ টাকা, শিশুদের জন্য ও সাইকেল, মটরসাইকেলসহ অন্যান্য গাড়িতে বাঁধার ছোট পতাকা ১০টাকা ও অফিস, বাসা, বাণিজ্যালয়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য উড়ানো পতাকা গুলো প্রকারভেদে ২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

তারা আরো জানায়, খুব সীমিত লাভে এ পতাকা বিক্রি করছি, যাতে সহজেই ক্রেতারা কিনতে পারেন সাধ্যের মধ্যেই। কারণ, পতাকা উড়ুক সারাদেশে। আমরা চাই, লাল সবুজের পতাকা উদযাপন করি বিজয়ের স্মৃতি থাক সবার মাঝে ও হৃদয়ে… ধারণ করি এ বিজয় দিবস।
কয়েকজন পতাকা ক্রেতার সাথে কথা হলে তারা জানায়, বিজয় একবারই। কিন্তু, এ দিবসটা বার বার ঘুরে আসে আমাদের মাঝে বছর ঘুরে… তাই আমরা বিজয়ের ইতিহাস হিসেবে এই পতাকা উড়িয়ে বিজয় তথা আনন্দ কিংবা উল্লাস পালন ও শহিদদের স্মৃতি বুকে ধারণ করা সকলের উচিৎ।

নজিপুর বাসস্ট্যান্ড বণিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ.জেড মিজান বলেন, নজিপুর পৌর শহরের জনবহুল বাসস্ট্যান্ডে প্রতি বছরের ন্যায় বিজয় ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকার আগত মৌসুমি পতাকা বিক্রেতারা ভ্রাম্যমাণ ভাবে কোন প্রকার বাঁধা ছাড়াই বিভিন্ন সড়কের পাশে পতাকা বিক্রয় করে থাকেন। যাদের কারণে আমরা সহজেই ও স্বল্প টাকায় হাতের নাগালেই পাচ্ছি পতাকা।

পত্নীতলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদুল ইসলাম জানান, বিজয় মানে আনন্দ, খুশির জোয়ার…! এ বিজয়ের দিনে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানের দিন। ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ শহিদের রক্তের ত্যাগের অপূর্ব মহিমায় এ আজকের স্বাধীনতা ও বিজয়ের পতাকা। যার জন্য আমরা জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করেছি। এর বিনিময়ে এই বিজয় পতাকা।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.