পানি নেয়াকে কেন্দ্র করে অন্তসত্বা মহিলাকে মারধর

0

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অধীনে মুক্তিযোদ্ধা কলোনিস্থ মনিরের কলোনিতে পানির নেওয়াকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ হাশেমের সাথে মোহাম্মদ সুলতানের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মোহাম্মদ সুলতান হাশেমকে মারধর করে। গত ৩১ মার্চ মঙ্গলবার বিকেল ৫ ঘটিকার সময় এ ঘটনা ঘটে। একই দিনে বিকেল ৫.৩০ ঘটিকায় মোঃ সুলতান (২৮), মোছাঃ হাসনা (৫০) ও মোছাঃ রুমা (২৪) মোঃ হাশেমকে না পেয়ে তার স্ত্রী রোকছানা আক্তার(২৬) একা পেয়ে মারধর করে।

রোকছানা আক্তার বলেন, আমি একজন গৃহিণী এবং ৩ মাসের অন্তসত্ত্বা হয়। আমার স্বামী দিনমজুরের কাজ করে। বিগত ৩ বছর যাবৎ বর্তমান ঠিকানায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করি। মোহাম্মদ সুলতান আমাদের কলোনির বর্তমান ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রায় সময়ই কলোনির ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও পানির বিষয় নিয়ে অহেতুক ভাড়াটিয়াদের সাথে খারাপ আচরণ করে। রোকসানা আক্তার আরো বলেন, গত ৩১ মার্চ মঙ্গলবারে আনুমানিক বিকেল ৫ ঘটিকায় মোঃ সুলতান (২৮), মোছাঃ হাসনা (৫০) ও মোছাঃ রুমা (২৪) এরা আমার স্বামীকে না পেয়ে আমাকে মারধর করে। আমার মাথার চুল ধরে আমাকে এলোপাতারি কিল, ঘুষি, লাথি মারে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। এক পর্যায়ে মোঃ সুলতান আমার পেটের বাচ্চা নষ্ট করার কুউদ্দেশ্যে আমার পেটে স্বজোরে লাথি মারে প্রচন্ড ব্যাথা সহ রক্তক্ষরণ হয়। আমি মাটিতে পড়ে গেলে মোসাম্মৎ হাসনা ও মোসাম্মৎ রুমা আমার গলায় থাকা ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (যার মূল্য আনুমানিক ২০ হাজার টাকা) নিয়ে ফেলে। আমি চিৎকার করলে পার্শ্ববর্তী ভাড়াটিয়ারা এগিয়ে আসতে দেখে সকল সন্ত্রাসীরা উক্ত ঘটনার বিষয় নিয়ে কোন প্রকার আইনের আশ্রয় নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে ভয়ভীতি দেখায়। পরে আমার স্বামী আমাকে মারধরের সংবাদ পেয়ে দ্রুত কলোনিতে আসলে অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের সহায়তায় আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। সিএনজি যোগে চমেক হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতালের গাইনি এন্ড অবস্ বিভাগে ৩৩নং ওয়ার্ডে ভর্তি করে। আমি চমেক হাসপাতালে ৩১-০৩-২০২০ইং তারিখ হতে ০৩-০৪-২০২০ইং তারিখ পর্যন্ত ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করি। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার পেটের অনাগত সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।

চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে উক্ত ঘটনার বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় এজাহার দায়ের করি। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা নং ০২, ধারা- ১৪৩/৩২৩/৩১৬/৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০। মহিলা আইন শৃঙ্খলা বায়েজিদ থানা কমিটির সভাপতি জান্নাত বেগম বলেন- নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতিবাজ ও নিরাপদ বসবাস যোগ্য চট্টগ্রামে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। আমরা যদি নারী নির্যাতন, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে না দাঁড়ায় তাহলে আমাদেরকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। তাই আমরা নারী নির্যাতন, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবাজদের না বলি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.