প্রাণবন্তরুপে চট্টগ্রামের একুশে বইমেলা, বাড়ছে দর্শনার্থী

0

কাজী মাহদী কবির: চট্টগ্রাম নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম চত্বরে চলছে অমর একুশে বইমেলা ২০২০। গত দুদিনের চেয়ে দর্শনার্থী বাড়ছে। তাই বই বিক্রিও কমবেশি বেড়েছে। এরই মধ্যে প্রতিদিন আসছে নতুন বই। তিনটায় মেলার দরজা খুলে দেওয়া হলেও তখন বইপ্রেমীদের চাপ কিছুটা কম ছিল। সন্ধ্যা হতে হতে ভিড় বাড়তে থাকে। নানা বয়সের আগত দর্শনার্থীরা ভিড় করছে মেলায়। কোন কোন স্টলের সামনে দেখা গেল চার-পাঁচজন কিংবা তারও বেশি আগত দর্শনার্থী জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। আবার কেউ কেউ স্টলের বই নেড়েছেড়ে দেখছেন। এবারের বইমেলায় অনেক নতুন নতুন বই এসেছে । আ. ফ. ম. মোদাচ্ছের আলীর ‘দেশের ছড়া, দশের ছড়া’, আহমেদ মোস্তফা কামালের ‘বর্ষামঞ্জরি’, মুজিব ইরমের ‘ইরম পদাবলী, হরিশংকর জলদাশের ‘আহব ইদানীং’ রাসেল রায়হানের ‘অমরাবতী’ সহ অনেক বই। বইগুলো পাঠকের চাহিদা পূরণ করতে পারলেই মনে হবে বই করাটা সার্থক।’
মেলায় আসা চট্টগ্রামের এক শিক্ষার্থী জানানÑ ‘বইমেলা আসলে অনেক ভালো লাগে, বইমেলা নতুন লেখকদের মাঝে নিজের পছন্দের বই খোঁজা অনেক আনন্দের। কিন্তু বইয়ের দাম আর একটু কমানো হলে আমাদের মতো শিক্ষার্থীরা বেশি বেশি বই কিনতে পারবে। বই কিনব, তবে আরও কিছুদিন পর। এখন বই দেখছি এবং পছন্দের বই খুঁজছি।’
উল্লেখ্য মেলায় বাতিঘর, বলাকা, খড়িমাটি, কালধারা, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন, দাঁড়িকমা, শৈলী, অক্ষরবৃত্ত, আবির প্রকাশন, নন্দন প্রকাশন, অনুপম, কাকলী, জ্ঞানকোষ, গলুই, শালিক, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, রোদেলা, পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স, পেন্সিলসহ ঢাকার ১১৮টি ও চট্টগ্রামের ৪০টি প্রকাশককে ২০৫টি স্টল রয়েছে।
বইমেলা চলবে ২৯ ফেব্রæয়ারী পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বইমেলা চলবে। ছুটির দিন বইমেলা শুরু হবে সকাল ১০টায় চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত।
গতবছর ২০১৯ সালের ফেব্রæয়ারিতে চট্টগ্রামে প্রথম সম্মিলিত বইমেলার আয়োজন করা হয়। যা দ্বিতীয় বৃহত্তর বইমেলা হিসেবে দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এবারের বইমেলা আরও জমজমাট হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। নগরীর কাজীর দেউড়ি থেকে লালখানবাজার এদিকে লাভলেইন থেকে নানা রঙের বইমেলার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে আশপাশের রাস্তা। সিসিটিভির আওতায় থাকবে পুরো বইমেলা প্রাঙ্গণ।
বইমেলায় নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা, রবীন্দ্র, নজরুল, বসন্ত, কবিতা, ছড়া, তারুণ্য, আবৃত্তি, বিতর্ক ও শিশু উৎসব, আন্তর্জাতিক লেখক সম্মিলন ও পাঠক সমাবেশ, পেশাজীবী ও সাংবাদিক সমাবেশ, সাহিত্য আড্ডা, কুইজ ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
চন্দ্রবিন্দুর প্রকাশক চৌধুরী ফাহাদ জানানÑ ‘বইমেলা হল লেখক-প্রকাশকের মিলনমেলা। মেলায় এখনো ভিড় তেমন বাড়ে নি, আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে এ ভিড় বাড়বে আর বিক্রিও বাড়বে। লেখক স্টলে থাকলে বিক্রি কিছুটা বেড়ে যায়।

বইমেলা পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সচিব লেখক-গবেষক জামাল উদ্দিন বলেন, এবারের মেলার পরিবেশ গত বছরের চেয়েও দৃষ্টি নন্দন ও হৃদয়গ্রাহী করা হয়েছে। নতুন নতুন বই এসেছে মেলায়। আশাকরি দর্শকরা যেমন মেলার পরিবেশ দেখে আনন্দিত হবে তেমনি বই কিনার প্রতিও আগ্রহ বাড়বে। আশাকরি গতবারের চেয়ে দর্শক সংখ্যা এবার আরও বাড়বে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.