বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে পরিবেশ বান্ধব সংগঠন ‘গ্রীন প্লানেট’ এর আলোচনা সভা অনুষ্টিত

0

বিশ্ব নদী দিবস ২০২০ পালন উপলক্ষে চট্টগ্রামস্থ পরিবেশ বান্ধব সংগঠন ‘গ্রীন প্লানেট’ এর আলোচনা সভা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে অনুষ্ঠিত হয়। এত সভাপতিত্ব করেন গ্রীন প্লানেট এর আহবায়ক স্থপতি মিজানুর রহমান। বিশিষ্ট প্রাণী বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খান এতে প্রধান অথিতি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমান ও বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও অধ্যাপক ড. ইাদ্রছ আলী বিশেষ অথিতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিচার্স ল্যাবরেটরির আহবায়ক য. মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কিবরিয়া মূখ্য আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। ৭১ টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মাঈনুদ্দিন দুলাল সভার সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন।
মূখ্য আলোচক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া তার দীর্ঘ আলোচনায় চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের সকল নদ-নদীর এক পূর্নাঙ্গ তথ্যবহুল চিত্র উপস্থাপন করেন।
তিনি নদী দূষন, পরিবেশ দূষন ও জীব বৈচিত্র নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন। সর্বশেষ তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি নদী মাতৃক দেশ এই কথাটি আক্ষরিক অর্থেই নয়, সপমগ্রীক অর্থেই সত্য। সর্বশেষ ড. কিবরিয়া নদী দূষন ও দখল নিয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রজেকশন করেন।
প্রধান অথিতি ড. আনিসুজ্জামান খান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নদী দূষন, দখল ও পরিবেশ রক্ষা নিয়ে তথ্যবহুল আলোচনা করেন। তিনি হালদা, কর্ণফুলি, সাঙ্গু, মাতামুহুরী নদীর উজান ভাটি এলাকায় বসবাসকারীদের দূষন নিয়ে বেশী বেশী সচেতনতার আহবান জানান। যাতে করে নদীর জীব বৈচিত্র ও মানব জীবনকে রক্ষা করা যায়।
বিশেষ অথিতি ও রাজনীতিবিদ মফিজুর রহমান তার সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বিশ্ব নদী দিবসের গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দেশের লোকজনকে দুষন নিয়ে আরো সচেতনতার অনুরোধ জানান। যেহেত আমাদের জনগনের সচেতনতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা দল মত নির্বিশেষে নদী দূষনকে প্রতিরোধ করা একান্ত আবশ্যক। চট্টগ্রাম বন্দরের ২৫ একর জমি ভুমি দস্যূদের ইজারা দিয়েছেন এবং এই বিষয়টি তিনি প্রধান মন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অবহিত করবেন বলে জানান। তিনি পরিবেশ বান্ধব, প্রকৃতি বান্ধব ও নদী বান্ধব বাংলাদেশ গড়ার গুরুত্বরোপ করেন।
আলাচনায় বিশেষ অথিতি ড. ইদ্রিছ আলী সংক্ষিপ্তভাবে নদী দিবসের গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ একটি নদী মাতৃক দেশ। স্বাধীনতা উত্তরকালে স্বাধীনতার ¯েøাগানে নদীর নাম সংযোজন ছিল। যেমন পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা ইত্যাদি।
তিনি জানান, চট্টগ্রামের ১৭ শিল্প জোনের ৩০০টি শিল্প কারখানার বর্জ্য প্রতিনিয়ত কর্ণফুলি ও হালদা নদীতে পড়ছে। তার দূষন প্রতিক্রিয়া মানবজাতি ও জীব বৈচিত্রের মারাত্মক ক্ষতি কওে যাচ্ছে।
ড. ইদ্রিছ আলী আরো জানান, বাংলাদেশে নদী দিবসটি ২০১০ সাল থেকে পালন শুরু হয়েছে। এবং জাতি সংঘ ২০০৫ সালে দিবসটি পালনের অনুমোদন করেন।
গ্রীন প্লানেট এর প্রধান নির্বাহী ও বিশ্ব নদী দিবস ২০২০ এর আহবায়ক স্থপতি মিজানুর রহমান তার সমাপনী বক্তব্যে বিশ্ব নদী দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি এই আলোচনা সভার আলোচকদের প্রানবন্ত আলোচনার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বর্তমান সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নদীকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার জন্য সাধুবাদ জানান। তিনি সরকারের প্রতি নদী দূষন থেকে দেশকে রক্ষা করতে সহযোগীতার আহবান জানান। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে হালদা নদীকে তিনি সরকারের প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ঘোষনায় সাধুবাদ জানান।
আলোচনা সভায় সভার আহবায়ক স্থপতি মিজান উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.