চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার জামে
মসজিদের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনে বিলম্ব ও র্নিমানাধীন কমপ্লেক্সের টাকা বেহাত হওয়ার অভিযোগ মুসুল্লীদের

0
Want create site? Find Free WordPress Themes and plugins.

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নগরীর লালখান বাজার জামে মসজিদটিঁ এই এলাকার অনেক পুরানো ঐতিহ্যবাহী একটি মসজিদ। এলাকার জনগন ও বহিরাগত অসংখ্য মুসূল্লী এই মসজিদে প্রতিদিন নামাজ পড়েন। তাই এই মসজিদের কমিটি বা অর্থের ব্যবহার নিয়ে কারু মাঝে সন্দেহ ও সংশয় তৈরী হউক এটা মুসল্লিরা চায়না। মুসুল্লিরা চায় একটি উপযুক্ত ও পূর্নাঙ্গ কমিটি, যারা অর্জিত অর্থের সঠিক ব্যবহার করে স্বচ্চতার সাথে মসজিদের স্বার্থ সংশ্লীষ্ট কাজ করতে পারবে।
জানা যায়, ডিসেম্বর মাসে এই মসজিদের পুরানো কমিটির মেয়াদ শেষ হয়, পুনরায় পূর্নাঙ্গ একটি কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও আজও পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি । ডিসেম্বরে বিগত কমিটির মেয়াদ শেষ হলে পুরানো কমিটির নেতৃবৃন্দরা উপদেষ্টাদের অবহিত করেন। একপর্যায়ে অর্ন্তবর্তী কালীন কার্য পরিচালনার জন্য গত জানুয়ারী মাসে মুসুল্লীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে আলহাজ্ব কাজী মাহমুদ ইমাম ভিলুকে সভাপতি, এস এম ফারুককে সাধারণ সম্পাদক ও হাবিবুল্লাহ মজুমদারকে অর্থ সম্পাদক ঘোষনা দিয়ে নতুন একটি কমিটি ঘোষনা দেন এই মসজিদের উপদেষ্টা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর এফ এম কবির মানিক।

জানা যায়, তাদেরকে ১ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার সময় বেধে দেন। অথচ তিনজনের এই কমিটি মুসুল্লিদের নতুন পূর্নাঙ্গ কমিটি এখনো উপহার দিতে পারেননি। এরই মধ্যে উপদেষ্টাসহ কমিটির নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নিয়ে মসজিদের উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত পরিবর্তন, পরিবর্ধনের কাজ শুরু করে দেন। তার অংশ হিসাবে মসজিদের অধীনে থাকা টিন সেডের দোকান ঘর ভেঙ্গে দ্বীতল বিশিষ্ট শপিং কমপ্লেক্স নির্মান শুরু করেন। যার অর্থের হিসাব নিয়ে মুসুল্লিদের মাঝে বর্তমানে সৃষ্টি হয়েছে সন্দেহ ও দ্বন্ধ।
এই মসজিদে নামাজ পড়েন এমন কয়েকজন মুসুল্লি বলেন, এই মসজিদে অনেক সজ্জন বিজ্ঞজনরা নামাজ পড়েন। যাদেরকে নিয়ে এই মসজিদের একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি করা যেতে পারতো। কিন্তু কমিশনার সাহেব নিজের ভাই ও তার খাচ মানুষদের দিয়ে তিনজনের একটি কমিটি সাজিয়ে এদের দিয়েই মসজিদের বিভিন্ন অর্থমূখী কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এরই মধ্যে মসজিদের স্বার্থ দেখিয়ে মসজিদের অধীনে থাকা টিন সেডের পুরানো দোকান ঘর ভেঙ্গে একটি ডেভেলপার কোম্পানীর মাধ্যমে দ্বীতল বিশিষ্ট সপিং কমপ্লেক্স নির্মান কাজ শুরু করেছেন। যেই ইমারত নির্মানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের কোনরুপ প্ল্যান নেয়া হয়নি।
আরো বলেন, দ্বীতল বিশিষ্ট এই শপিং কমপ্লেক্সের উপরে ও নিচে ৩৪টি দোকান ঘর নির্মিত হচ্ছে। এর মধ্যে নিচের ১৭টি দোকান ঘরের অগ্রীম ১০,০০০০০/-(দশ লক্ষ) এবং দুতালার উপরে ১৭টি দোকান ঘরের অগ্রীম ৫,০০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ) টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এই হিসাব মতে, নিচের ১৭টি দোকান থেকে ১কোটি ৭০ লক্ষ টাকা এবং উপরের দোকান থেকে ৮৫ লক্ষ টাকা অর্জিত হবে। এই হিসাব করেই মসজিদের এই বিপুল অর্থ নিয়েই মুসুল্লি ও এলাকার জনমনের মাঝে প্রশ্নের দানা বাধতে থাকে। মুসুল্লি সূত্রে জানা যায়, মসজিদের অর্জিত এই টাকা এখনো মসজিদ ফান্ডে জমা হয়নি।

কয়েকজন মুসুল্লি প্রশ্নের সুরে বলেন, এই দ্বীতল শপিং কমপ্লেক্সের নির্মান ব্যায় বাবদ কত টাকা ধার্য্য হয়েছে, এবং কি কি শর্ত রয়েছে ডেভেলপার কোম্পানীর সাথে। মসজিদ কমিটির সাথে ডেভেলপারদের করা সেই চুক্তিপত্র আমরা এখনো দেখেনি। সেই চুক্তির বিষয়ে মুসুল্লিদের এখনো পরিস্কারভাবে জানানো হলোনা কেন? এই শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ঘরের অর্জিত অগ্রীম টাকা মসজিদ ফান্ডে জমা হয়নি কেন?
মুসুল্লিদের কয়েকজন আরো বলেন, দ্বীতল এই সপিং কমপ্লেক্স নির্মান ব্যায় ৪০ লক্ষ টাকা ধরা হলেও বাকী ২কোটি ১৫ লক্ষ টাকা মসজিদ কোষাগারে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু মসজিদের কোন মুসুল্লিরা এখনো জানেনা কতটা দোকান ঘর বরাদ্ধ হলো আর কতটা এখনো বরাদ্ধ হয়নি। আর যে দোকান ঘরগুলো বরাদ্ধ হয়েছে সেই টাকার কোন হিসাব এখনো মুসুল্লিদের সামনে উপস্থাপন হয়নি। এতে এই মসজিদের মুসুল্লি ও এলাকার জনমনে প্রশ্ন, সন্দেহ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হতে থাকে। মসজিদের সামনে টাঙ্গিয়ে দেয়া হয় মুসুল্লিদের দাবীকৃত ব্যানার। কিন্তু বিপাকে পড়েছেন দোকানঘর ক্রয়কারীরা। কারন তারা যেই টাকা দোকান ঘর বাবদ অগ্রীম জমা দিয়েছেন, যদি কোন কারনে শপিং কমপ্লেক্স নির্মানে বিলম্ব হয় বা সিডিএ কতৃক উচ্ছেদ করা হয় তবে তাদের দেয়া টাকা ফেরত পাবেন কিনা।

কমপ্লেক্স উচ্ছেদ করা হলে মসজিদেরও ক্ষতি হবে এই ভেবে কয়েকজন মুসুল্লী বলেন, আমরা চাইনা এটা ভেঙ্গে দেয়া হউক, বা সিডিএ কতৃক উচ্ছেদ করা হউক, কারণ এতে মসজিদের আয়ের ক্ষতি হবে। আমরা শুধু সঠিক হিসাবটা চেয়েছি।
এদিকে সিডিএর নোটিশ সূত্রে জানা যায়, সিডিএ গত ০১/০৭/২০১৮ইং তারিখে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সপিং কমপ্লেক্সের সকল প্রকার নির্মান কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কতৃপক্ষ।
দোকান না পেয়ে হতাশ হলেন ২০/২৫ বছরের পুরানো দোকানদাররা। দু একজন নিতে পারলেও বেশীর ভাগ পুরানো দোকানদাররা দোকান বরাদ্ধ পাননি বা এতো টাকা দিয়ে অনেকের পক্ষে দোকান বরাদ্ধ নেয়া সম্ভব নয়।দুজন পুরানো দোকানদার প্রতিবেদককে তাদের কষ্টের অনুভুতি জানান। আর এই সব নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে এলাকায় পক্ষ বিপক্ষ।

মুসুল্লিদের কয়েকজন বলেন, আমরা চাইনা মসজিদের হক নিয়ে কেউ রাজনীতি করুক। বা কেউ রাজনৈতিক পেশী শক্তি বা ক্ষমতার গরম দেখিয়ে মসজিদের টাকা তছরুপ করুক। আমরা চাই এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদের সুন্দর এক্িট কমিটি হউক, আমরা চাই মসজিদের টাকা সুষ্ঠভাবে মসজিদের কাজে লাগুক। এই টাকা নিয়ে কেউ যাতে কোনরুপ অপ-সুবিধা নিতে না পারে এটাই আমাদের প্রাণের দাবী।
এই বিষয়ে মসজিদের খতিবকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মসজিদের আয়ের জন্য ইমারত নির্মান সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, চুক্তি এবং সংগৃহিত অর্থের জমা খরচ সংক্রান্ত কিছুই আমি জানিনা। এই বিষয় গুলো আমার আওতায় পড়েনা। বিষয়গুলো সম্পূর্নরুপে কমিটিই পরিচালনা করে।
মসজিদের বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব কাজী মাহমুদ ইমাম ভেলূকে কমিটির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমাদের কমিটি এখনো পূর্নাঙ্গ হয়নি। তবে পূর্নাঙ্গ করার জন্য কাজ চলছে। মসজিদের হিসাব সংক্রান্ত ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মসজিদের পুরানো সব হিসাব আজকের দিন পর্যন্ত আপডেট আমাদের কাছে আছে, কেউ জানতে চাইলে জানাতে পারবো। কিন্তু ইমারত নির্মান সংক্রান্ত হিসাব আমাদের কাছে নেই। এই হিসাবটা ডেভেলপারের কাছে আছে। তারাই বলতে পারবে। আর মসজিদ কোষাগারে ইমারত নির্মান সংক্রান্ত বা অগ্রীম প্রাপ্ত অর্থ প্রাথমিক ভাবে ঢোকার সুযোগ নেই। ইমারত নির্মান কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখনো কোন হিসাব নেইনি। একটা পর্যায়ে সকল হিসাব নিকাশ আমরা পাবো। পুরানো দোকানদারদের দাবীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রথমে পুরানো দোকানদারদের সুযোগ দিতে চাই। তারাই আগে বরাদ্ধ পাবে। তারপর নতুন আবেদনকারীরা। তিনি প্রতিবেদককে আরো বলেন, যারা এই হিসাব নিকাশ নিয়ে ্এখন প্রশ্ন তুলছে আসলে তা রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য করছে। এখানে এলাকার গ্রæপ ওয়ারী রাজনীতির হিসাবও চলছে। আমি মনে করি তারা সঠিক ভাবে

এই বিষয়ে সিডিএর অথোরাইজড অফিসার মনজুর হাসান বলেন, দ্বীতল বিশিষ্ট ইমারতটি চানমারী রোডে এলাইনে নির্মান করা হয়েছে। এই কমপ্লেক্স স্থাপনার কোন সিডিএ প্ল্যান নাই। আমরা ওয়ার্ড প্রতিনিধি কাউন্সিলরকে বিষয়টি অবহিত করেছি, কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছি। এর মধ্যে তিনি কোন ব্যাবস্থা না নিলে আমরা আইন অনুযায়ী উচ্ছেদের নোটিশ দিবো।
তবে মসজিদ কতৃপক্ষ সূত্রে জানাযায়, নির্মানকৃত ইমারতটি মসজিদের অনুকুলে দানকৃত জায়গা দীর্ঘ দিন যাবত টিনসেট দোকানের ভাড়া মসজিদের আয় হিসাবে কোষাগারে জমা হয়ে আসচ্ছে।
এই বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর এফ এম কবিরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মসজিদ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। কিছু লোক উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে মসজিদের স্বার্থ চায়না। একটি পক্ষ কাদা ছুড়াছুড়ি করে মসজিদের স্বার্থ বিনষ্ট করছে। মসজিদ এবং অর্থ সংক্রান্ত ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারবোনা। এই বিষয়ে মসজিদ কতৃপক্ষই ভালো জানেন আপনি মসজিদের কোষাধ্যাক্ষ থেকে বিস্তারিত জানুন।

মসজিদের অর্থ সম্পাদক হাবিবুল্লা মজুমদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জানি এই শপিং কমপ্লেক্সটি ডেভেলপারদের দিয়ে নির্মান করা হচ্ছে। কিন্তু নির্মান সংক্রান্ত কোন চুক্তি হয়েছে কিনা, কি কি শর্তে নির্মান হচ্ছে, বা বরাদ্ধকৃত প্লটের অগ্রীম টাকা কত উঠেছে, নির্মান ব্যায় কত হয়েছে তা আমি জানিনা। এই ব্যাপারে আমি সম্পূর্ন অন্ধকারে রয়েছি। এই বিষয়গুলো সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই ভালো বলতে পারবেন। তবে মসজিদের কোষাগারে এই নির্মানকৃত কমপ্লেক্স থেকে অগ্রীম পাওয়া কোন টাকা জমা হয়নি। আগামী বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর মসজিদ কমিটি বিষয়গুলো নিয়ে বসবে তখন জানতে পারবো।

এই বিষয়ে আবুল হাসনাত বেলালকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অনেকে বলছে আমি এই মসজিদের মুসুল্লি নই। অথচ আমার বাসা এই মসজিদ থেকে ১০০ হাত দুরে। ছোটবেলা থেকে আমি ও আমার পরিবারের পূর্বপুরুষরাসহ এই মসজিদে নামাজ পড়েন। এই মসজিদের মুসুল্লী হিসাবে মসজিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমারও জানার অধিকার আছে। আমি কমিটির মাধ্যমে জানতে পারছিনা তাই জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে সমুদয় বিষয় অবহিত করে মসজিদ স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য আহবান জানিয়েছি। যাতে প্রশাসনের মাধ্যমে সবাই জানতে পারে, উদঘাটিত হয় সকল শুভংকরের ফাকি।

Did you find apk for android? You can find new Free Android Games and apps.

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.