মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে তামিম-লিটনের সেরা ‘উপহার’

1

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুতর্জার বিদায়ী ম্যাচ। তামিম ইকবাল-লিটন দাসের মধ্যে কি সে জন্যই এত তাড়না দেখা গেল! এ তাড়না ‘উপহার’ দেওয়ার। অধিনায়ক মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে নতুন ইতিহাস লেখার। এর চেয়েও দৃষ্টিনন্দন ছিল লিটনের ব্যাটিং। সিরিজের প্রথম ম্যাচে হাঁকিয়েছিলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্ভাগ্যজনক রান-আউটের শিকার হন। আজ তৃতীয় ম্যাচেই ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফেললেন লিটন দাস।

উইলোকে তুলি বানিয়ে শট খেলেছেন উইকেটের চারপাশে। কাট, কভার ড্রাইভ, ফ্লিক, পিকআপ শট—সবকিছুতেই ছিল চোখের সৌন্দর্য। একসময় মনে হচ্ছিল ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ বোধ হয় হয়েই যাচ্ছে। কিন্তু ৪১তম ওভারে কার্ল মুম্বাকে স্ট্রেট দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন লিটন। তার আগে ১৪৩ বলে খেলেছেন ১৭৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস (১৬ চার ও ৮ ছক্কায়)। অন্য প্রান্তে তামিমও ছিলেন বেশ মারকুটে মেজাজে। ১০৯ বলে ১২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ৩২২ রান তুলে ইনিংস শেষ করেছে বাংলাদেশ।

আগের ম্যাচেই ১৫৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। সেটি ছিল ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। ‘ছিল’ বলতে হচ্ছে লিটনের জন্য। কেননা, পরের ম্যাচেই মানে আজ তামিমের রেকর্ডটা নতুন করে লিখিয়েছেন লিটন। ২৯২ রানে ভেঙেছে দুজনের ওপেনিং জুটি। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি। আর বিশ্বে ওপেনিং জুটিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ। 

বাংলাদেশের ইনিংসকে দুটি অংশে ভাগ করা যায়—বৃষ্টির আগে ও পরে। বৃষ্টির আগে ৩৩.২ ওভার পর্যন্ত রান ছিল বিনা উইকেটে ১৮২। অর্থাৎ ওভারপ্রতি গড়ে ৬-এর নিচে। বৃষ্টিতে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল খেলা। ম্যাচের দৈর্ঘ্য নামিয়ে আনা হয় ৪৩ ওভারে। প্রায় ১০ ওভারের মতো ইনিংস বাকি থাকায় ব্যাটিংয়ে নেমেই ঝড় তুলেছেন দুই ওপেনার।

বৃষ্টির আগে ১১৬ বলে ১০২ রান করেছিলেন লিটন। বৃষ্টি থামলে পুনরায় খেলা শুরুর পর তিনি খেলেছেন ২৭ বল—এর মধ্যে তুলেছেন ৭৪! ৮৪ বলে ৭৯ রানে অপরাজিত থাকা তামিম পুনরায় খেলা শুরুর পর ২৫ বলে তুলেছেন ৪৯। সব মিলিয়ে ৮ ছক্কা ও ১৬টি চার মারেন লিটন। তামিমের ইনিংসে ছিল ৬ ছক্কা ও ৭টি চারের মার। লিটন আউট হওয়ার পর মাহমুদউল্লাহ (৩) ও অভিষিক্ত আফিফ হোসেনের (৭) উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক শন উইলিয়ামস মোট ছয় বোলার ব্যবহার করেও তামিম-লিটনকে থামাতে পারেননি। লিটনের উইকেটটি ইনিংসের শুরুর দিকেই পেতে পারতেন উইলিয়ামস। লিটন ৫৪ রানে অপরাজিত থাকতে তাঁকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেছিলেন উইলিয়ামস। আম্পায়ার সাড়া দেননি। উইলিয়ামসও রিভিউ নেননি। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, ওটা আউট ছিল। এ ছাড়া লিটন ও তামিমের ক্যাচও ছেড়েছেন জিম্বাবুয়ের ফিল্ডাররা।