হাতীবান্ধায় ওসি এলএসডি’র বিরুদ্ধে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ

0

নুরনবী সরকার, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: চলতি আমন মৌসুমে কৃষকের কাছে ৫ শত টাকা ও মন প্রতি ২ কেজি করে ধান নেয়সহ নাম জালিয়াতি ও নানা অনিয়ম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা কাইয়ুম খানের বিরুদ্ধে।

গত ২২ ফেব্রæয়ারী, ২৪ ফেব্রæয়ারী জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পৃথক দুটি অনিয়মের অভিযোগ করেন সুবিধাভোগী কৃষকরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরপাড়া গ্রামের জাহানারা বেগম, বুরা সারডুবি গ্রামের আবু সামা ও সাবু আলম এবং ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের উত্তর জাওরানী গ্রামের প্রভাস চন্দ্র রায় ও দক্ষিণ জাওরানী গ্রামের নরেন্দ্র চন্দ্র রায়ের ধান ক্রয়ের লটারীতে তাদের নাম উঠে। সেই সূত্রে গত ২১ ফেব্রæয়ারী ফকিরপাড়া ইউনিয়ন ও ২৩ ফেব্রæয়ারী ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের কৃষকরা ধান বিক্রয়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আপনাদের নামে ধান ক্রয় করা হয়েছে এবং সেই সাথে বিলও পরিশোধ হয়ে গেছে। আমাদের নামীয় ধান কার মাধ্যমে ক্রয় করলেন? তা জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা বলেন, এত কথা বলার সময় নেই। আমি দ্বিতীয়বার আপনাদের ধান নিতে পারবো না। অযথা সময় নষ্ট করবেন না বলে তিনি বিভিন্নভাবে টালবাহানা শুরু করেন।

সুবিধাভোগী কৃষক আবু সামা ও প্রভাস চন্দ্র রায় জানান, চলতি মৌসুমে ধান ক্রয়ের লটারীতে আমাদের নাম উঠে তাই আমরা ধান নিয়ে বিক্রয়ের জন্য উপজেলা খাদ্য গুদামে যাই। সেখানে খাদ্য কর্মকর্তাকে আমাদের কাগজপত্র দেখিয়ে ধান দিতে চাইলে তিনি বলেন আপনাদের ধান তো নেয়া হয়েছে। বিলও পরিশোধ হয়েছে। আপনাদের ধান আমি নিতে পারবো না। কিভাবে এবং কে ধান দিল তার সঠিক উত্তর তিনি দিলেন না। অনেক কষ্টে গুদামে ধান দেয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম তাও দিতে পারলাম না। আমরা গরিব মানুষ এখন কি করব?

এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা কাইয়ুম খান অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা সুষ্ঠভাবে ধান ক্রয় করেছি। প্রকৃত কৃষক ছাড়া অন্য কারও কাছে ধান ক্রয় করা হয় নাই। তবে প্রতিদিন প্রায় ১’শত জন কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হয় এতে ছোটখাট একটু ভুল হতে পারে।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কালাম (ভারঃ) বলেন, বিষয়টি শুনেছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিন জানান, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.