কাজী মাহদী কবিরঃ আজ সকাল ১০ টার দিকে চট্টগ্রাম এলজিএডি ভবনের সামনে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধভাবে উপজেলা প্রকৌশলীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ইউএনও-কে প্রত্যাহার সহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রধান প্রকৌশলী শুসংকর চন্দ্র অ্যাচার্য্য,এলজিইডি চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলবৃন্দ,সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী,উপজেলা প্রকৌশলীবৃন্দ, উপসহকারী প্রকৌশলীবৃন্দ এবং এলজিইডি চট্টগ্রামের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
মানববন্ধনে এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মোঃ মহিউদ্দিন চৌধরী বলেন,গত ০৬.০৩.১৯ ইং তারিখে বাহুবল উপজেলার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব মোঃ জসিম উদ্দিন কর্তৃক অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্ব পরিকল্পিত ও সম্পূর্ণ সু-সজ্জিতভাবে পরিস্থিতির সৃষ্টি করে উপজেলা প্রকৌশলীকে কার্যালয়ে নিজ কক্ষে কর্মরত অবস্থায় গ্রেপ্তার ও হাতকড়া পড়িয়ে এক ভীতিকর ও শাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।
তিনি আরো বলেন, ইউএনও জসীম উদ্দিন যোগদান করার পর থেকে (১১.০৫.১৭) পরিত্যক্ত সরকারী বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। পরিত্যক্ত ঘোষিত বিধায় তিনি সরকার নির্ধারিত ভাড়া প্রদান করেন না। কিন্তু নিয়মিত উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রচুর রক্ষনাবেক্ষনের কাজ করিয়েছেন। এত আমি দ্বিমত প্রকাশ করলে তাঁর সাথে শুরু থেকেই রিরোধের সৃষ্টি হয়।
এধরনের অনিয়ম ছাড়াও ইউএনও জসিম উদ্দিন আরো অনেক দুর্নিতীর সাথে যুক্ত। কয়েকজন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের উপর প্রভাব খাটিয়ে তিনি প্রায়ই এডিপি এবং ভূমি উন্নয়ন তহবিল (১% ভূমি কর তহবিল) এর টাকা লোপাট করেন। সম্প্রতি ইউএনও সাতকাপান ইউনিয়ের ১% ভুমি কর তহবিলের একটি কাজের বিল প্রদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং তাহার দপ্তর কর্তৃক ইস্যুকৃত দুই লক্ষ টাকার চেকের বিল ভাউচার সহ প্রাক্কলন সংশ্লিষ।ট ফাইলে না থাকায় নিয়ম বহির্ভুতভাবে মাটির কাজের বিল প্রদানের চেকসহ ফাইলটি স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানায়।
গোলাম মোঃ মহিউদ্দিন চৌধরী আরো বলেন, এ ঘটনার কিছু সময় পর আনুমানিত ১১:৩০ ঘটিকায় পুলিশ সহ- বাহুবল উপজেলার ইউএনও জসিম উদ্দিনের নির্দেশে পুলিশ আমার অফিস কক্ষ হতে তাঁর অফিস কক্ষে নিয়ে যান এবং হাতকড়া পরা অবস্থায় আমাকে দাড়িয়ে থাকতে বলেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে ইউএনও জসিম উদ্দিন গ্রেফতারের বিষয় সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি বিবৃতি প্রদান করেন। এতে তিনি জানান জনতার রুদ্ররোষ থেকে আমাকে বাঁচাতে আমাকে নিরাপত্তা হেফজত প্রেরণ করেছেন। কিন্তু ভিডিও ফুটেজে উত্তেজিত ইউএনওকে চুড়ানট্ত অপব্যবহার করতে দেখা গেছে। ভিডিওটিতে কোন উত্তেজিত জনতা দেখা যায়নি।
এই ঘটনার সুষ্ট তদন্ত, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী ইউএনও-কে অবিলম্বে প্রত্যাহার সহ তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানান এই মানববন্ধনে।