Friday, November 6

অভাবের তাড়নায় কিশোরীর আত্মহত্যা: পরিবারের পাশে সন্দ্বীপ থানার ওসি

0

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় অভাব-অনটন ও ঋনের চাপে জর্জরিত একটি পরিবার খাবার জোগাড় করতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে পরিবারের এক কিশোরী ফাঁস লাগিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে।

গত ১৯ নভেম্বর সকালে উপজেলার কালাপানিয়া এলাকায় এ ঘটনার পর আসহায় পরিবারটি পাশে দাড়িয়েছে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ।

গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যাকারী কিশোরীর নাম মিহা (১৩)। সে স্থানীয় আব্দুল মালেক দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী ছিল।

সন্দ্বীপ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ঋনের চাপে অসহায় এ পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করে তুলতে তার সহায়তার হাত বাড়ান। তিনি ব্যক্তিগত অর্থে মিহার বাবা মনিরের পরামর্শে একটি নতুন ভ্যান গাড়ী তৈরী করে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে তা তুলে দেন।

স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, ১৯ নভেম্বর সকাল ৮টায় পাওনাদারের ভয়ে মা-বাবা যখন বাড়ীর বাইরে ছিল তখন মিহা ছোট ভাই মিহানের মাধ্যমে বাকীতে দোকানে কেক চেয়ে ব্যর্থ হয়। পরে ক্ষুধার জ্বালা আর অপমানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সে আত্মহত্যা করে। মাদ্রাাসা ছাত্রীর মর্মান্তিক এ আত্মহত্যার ঘটনাটি অন্যান্যদের মত মেনে নিতে পারেননি সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইন চার্জ সাইফুল ইসলাম।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, মিহাদের বাড়ী কালাপানিয়ায় গিয়ে ঘটনার তদন্তে জানতে পারি, সংসারের অভাব-অনটন দূর করে স্বাবলম্বী হতে মিহার মা রাহেনার নামে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে এক লক্ষ টাকা ঋন নেয়া হয়। কিন্তু বিনিয়োগ করার পূর্বে ঐ টাকা হারিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পরে যায় তারা।

দিনমজুরের মাধ্যমে অর্জিত আয় দিয়ে কোনভাবে এনজিও ঋনের কিস্তি পরিশোধ সম্ভব হচ্ছিল না। তাই বিভিন্ন উৎস থেকে লোন নিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা চালায় মিহার মা-বাবা। কিন্তু দিন দিন ঋনের ভারে জর্জরিত হতে থাকে তারা। পাওনাদারের চাপে তারা প্রায় পালিয়ে বেড়াত। এ সময় মিহার লেখাপড়া খরচ নির্বাহ করা দূরের কথা তিন সন্তানের পেটে আহার ঝোগানো দূঃসাধ্য হয়ে পরে।

ভ্যান গাড়ীটি পেয়ে খুশি মিহার মা-বাবা, ঋনের টাকা পরিশোধ করতে এখন আর তাদের খুব একটা সমস্যা হবেনা বলে জানিয়েছেন।

ওসি জানান, মানবতাবোধ থেকে তাদের প্রতি আমার ক্ষুদ্র সহায়তা, স্থানীয় এম.পির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিল থেকে দুঃস্হ পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তার জন্য একটি আবেদন প্রেরণের ব্যবস্থা করেছি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.