Tuesday, August 25

অসহনীয় বায়ু দূষণ! দিল্লিকে ছাড়িয়ে এক নম্বরে ঢাকা

0

বায়ুদূষণে বিপজ্জনক সীমা ছুঁয়ে ফেলেছে রাজধানী ঢাকা। দিল্লিকেও ছাড়িয়ে গেছে এই দূষণ। বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ও খারাপ পরিস্থিতিতে উপনীত হয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের বায়ুর গুণমান যাচাইকারী সবচেয়ে বড়ো ডাটাবেইস এয়ার ভিজ্যুয়ালের প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুমান এখন ২৪২। যার অর্থ, ঢাকায় বাতাসের মান অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।

বায়ুর মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর শীর্ষ বায়ু দূষণের শহরের একটি ঢাকা। ভারতের ‘গ্যাস চেম্বার’ আখ্যা পাওয়া দিল্লির বাতাসের চেয়েও বেশি দূষিত হয়ে পড়েছে ঢাকার বাতাস। বায়ুর মান নিয়ে গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী টানা তিনদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকার শীর্ষে ছিল ঢাকা। বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এয়ার ভিজ্যুয়াল প্রতি দিনই বায়ুর মান নিয়ে তথ্য প্রকাশ করে। এ তথ্য প্রকাশ করা হয় প্রতি ঘণ্টায়।

গত দুই মাসে মাত্র ১৯ ঘণ্টা ভালো বায়ু সেবন করেছে রাজধানীবাসী। ইউএস এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (ইউএস একিউআই) অনুসারে র‌্যাংকিং করে এয়ার ভিজ্যুয়াল। এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয় বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা পিএম ২ দশমিক ৫-এর মাত্রাকে। বাতাসে ২ দশমিক ৫ মাইক্রনের ছোট দূষিত বস্তুকণার উপস্থিতি পরিবেশে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। মানুষের শ্বাস প্রক্রিয়া আক্রান্ত করে মৃত্যু ঝুঁকি সৃষ্টি করছে পিএম ২ দশমিক ৫। বিশ্বের দূষিত শহরগুলোতে মানুষের আয়ু হ্রাস, মৃত্যু ও স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম কারণ এ ক্ষতিকর ধূলিকণা।

একিউআই সূচকে ৫১ থেকে ১০০ স্কোর পাওয়ার মানে হলো বাতাসের মান গ্রহণযোগ্য। এয়ার ভিজ্যুয়াল অনুসারে, গত মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটায় ঢাকার স্কোর ছিল ২২৭, যা খুবই অস্বাস্থ্যকর। সকাল আটটার দিকে এই স্কোর ছিল ২৫২। বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ দূষিত বাতাসের শহরগুলো হচ্ছে যথাক্রমে উলানবাটার, মুম্বাই, লাহোর, দিল্লি, কিয়েভ, সারায়েভো, কাঠমাণ্ডু, কলকাতা ও চেংদু। বায়ুমান যাচাই বিষয়ক অপর এক প্রতিষ্ঠান এয়ারনাউ অনুসারে, কোনো শহরের একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০’র মধ্যে থাকলে ওই শহরের বাসিন্দারা নানা ধরনের স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভোগার ঝুঁকিতে থাকেন।

এ দিয়ে বায়ুর মান নিয়ে গতকাল ঢাকায় আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয় বলে মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ৫ এবং ৬ই নভেম্বর বায়ু দুষণে ঢাকার অবস্থান ছিল শীর্ষে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি ও তৃতীয় স্থানে পাকিস্তানের অন্যতম শহর লাহোর। পর্যবেক্ষণ বলছে, বছরের প্রায় ২০০ দিন ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর থাকে। সে দিক বিবেচনায় দূষিত শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সাধারণত নভেম্বর মাস থেকে মার্চ পর্যন্ত ঢাকার বাতাস বেশি দূষিত থাকে এবং গত চার বছর ধরে ঢাকার বাতাসের দূষণের ব্যাপ্তি ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে। ২০১৭ সালে বায়ুর মারাত্মক দূষণের সময়কাল ১৮৫ দিন হলেও তা ২০১৮ সালে ১৯৭ দিনে গিয়ে দাঁড়ায়। মানবদেহের জন্য দূষণের অসহনীয় উপাদান মাত্রা পিএম-২.৫ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ ১৯৯০ সাল থেকে বসবাস করে আসছে। বাতাসে ২.৫ মাইক্রোনের মতো সূক্ষ্মকণার উপস্থিতি মানবদেহে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে।

এছাড়া স্টেট অব গ্লোবাল এয়ারের মতে, বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে বায়ুদূষণের মাঝে বাস করছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, বায়ুতে যেসব ক্ষতিকর উপাদান আছে, তার মধ্যে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক পিএম ২ দশমিক ৫ উপাদান সবচেয়ে বেশি নির্গত করত চীন। গত দুই বছরে চীনকে টপকে ঐ দূষণকারী স্থানটি দখল করে নেয় ভারত।

এখন ভারতকে টপকে এক নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে জাপানের টোকিও শহর। প্রতিবেদনটিতে মূলত কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বায়ুদূষণের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর বায়ুদূষণের কারণে শিশুমৃত্যুর হারের দিক থেকে পাকিস্তানের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

ইউনিসেফ বলছে, বিশ্বে ৩০ কোটি শিশু দূষিত বায়ু অধ্যুষিত এলাকায় বাস করে, যার মধ্যে ২২ কোটিই দক্ষিণ এশিয়ায়। আর বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে প্রতি বছর শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সি ৬ লাখ শিশুর মৃত্যু ঘটে।

ঢাকার অবস্থা সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক জানাচ্ছে, পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের কারণে বছরে মারা যায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষ এবং আবাসিক দূষণের কারণে বছরে সাড়ে ৪ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, ঢাকার বাতাসে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বস্তুকণা, ক্ষুদ্র বস্তুকণা ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শহরের বাতাসে ক্ষতিকর ওই তিন উপাদানের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি থাকে।

পরিবেশ আইন অনুযায়ী, রাজধানীর বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তুকণা বা ‘পিএম ২.৫’-এর মানমাত্রা হচ্ছে প্রতি কিউবিক মিটারে ১৫ মাইক্রোগ্রাম। এ ছাড়া ‘পিএম ১০’ বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণার মানমাত্রা ৫০ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৫ সালে পিএম ২.৫-এর সারা বছরের গড় ছিল ৮১ মাইক্রোগ্রাম ও ২০১৬ সালে ৭৬ মাইক্রোগ্রাম। পিএম ১০-এর গড় পাওয়া গেছে ২০১৫ সালে ১৪৮ মাইক্রোগ্রাম ও ২০১৬ সালে আরও বেড়ে হয়েছে ১৫৮ মাইক্রোগ্রাম।

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিনিয়ত ঢাকার পরিবেশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে বায়ু দূষণ। প্রতিবছরই বায়ু দূষণ সময়ের সঙ্গে খারাপ হচ্ছে। সার্বিকভাবে ঢাকার পরিবেশ খারাপ হচ্ছে। মূলত তিনটি কারণে বায়ু দূষণ হচ্ছে। যেমন- ইট ভাটার কালো ধোয়া, গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে এর ক্ষতিকর ধোয়া এবং বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ কাজের ধুলাবালির কারণে বায়ু দূষণ হচ্ছে। আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় নিয়ম নীতি না মেনে ব্যাঙের ছাতার মত ইট ভাটা তৈরি হচ্ছে। এক্ষেত্রে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করলে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল-আলম বলেন, ঢাকার বায়ু অনেক আগের থেকেই দূষিত হচ্ছে। বিশেষ করে যানবাহন, বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ কাজ, ইটভাটা ইত্যাদির কারণে বাতাসের ঘনত্ব দিন দিন বেড়ে ভয়াবহ অবস্থার দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা শহরে বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ হচ্ছে রাস্তা খোড়াখুড়ি ও বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ কাজের কারণে সৃষ্ট ধুলাবালি। এছাড়া গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোয়া। ইট ভাটার ক্ষতিকর ধোয়া ইত্যাদি। এক্ষেত্রে কেউ আইনের তোয়াক্কা করছে না। উন্নত দেশগুলোতে নির্মাণ কাজের সময় বিশেষ প্রক্রিয়ায় ধুলাবালি নির্গত করে। আমাদের দেশে কোনো ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না রেখেই সরাসরি নির্মাণ কাজ করে। ফলে সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে ক্যান্সার, যক্ষাসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশেষ করে নারী এবং শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। কোনো ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নেই। আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে এই বায়ু দূষণের মাত্রা হবে সীমাহীন। কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা বলা যাচ্ছে না। পানি দূষণ, মাটি দূষণ, বায়ু দূষণ সব একসঙ্গেই হচ্ছে। আইন কেউ মানছে না। এবং আমরা আইনের প্রয়োগ করতে পারছি না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মো. রাসেল সাবরিন বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্মল বায়ু প্রজেক্ট নামে একটি প্রকল্প আছে। যেটা ঢাকা শহরকে দূষণমুক্ত করার জন্য কাজ করছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে যে পার্কগুলো ছিল সেগুলোকে নতুন আঙ্গিকে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বনায়ন করেছে। যেটাকে আমরা সবুজায়ন বলতে পারি। বিশেষ করে পুরান ঢাকার ক্যামিকেল কারখানাগুলোর স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া আরো অনেকগুলো প্রকল্প চলমান আছে।

পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক: ঢাকা সিটিতে বায়ু দূষণের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, মূলত তিন কারণে ঢাকাসহ সারাদেশে বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়ছে। সেগুলো হলো-ইটভাটা, মোটরযানের কালো ধোঁয়া এবং যথেচ্ছ নির্মাণকাজ। গতকাল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকার বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরো বলেন, কীভাবে জনগণকে বায়ু দূষণ থেকে মুক্ত করতে পারি সে জন্য এ সভা ডাকা হয়েছে। ঢাকা সিটিতে বায়ু দূষণের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। সরকারি বেসরকারি অবকাঠামো ও বিভিন্ন কাজে সমন্বয় করা প্রয়োজন। ইউটিলিটি সার্ভিসের কাজের জন্য সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেস-হাইওয়েসহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে ভবন নির্মাণের সময় পানি ছিটানো, যন্ত্রপাতি যত্রতত্র ফেলে না রাখা ও নির্মাণের ক্ষেত্র নির্ধারিত বেষ্টনীর মধ্যে আছে কি না তা দেখতে হবে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বায়ু দূষণের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এ সমস্যা রোধে মূল দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের। ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান বাড়ানো হয়েছে।

শাহাব উদ্দিন জানান, বাংলাদেশে বায়ু দূষণের উৎস নিয়ে চলতি বছরের মার্চে একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংক। তাতে দেখা যায়, দেশে বায়ু দূষণের প্রধান তিনটি উৎস হচ্ছে-ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও নির্মাণকাজ। আট বছর ধরে এ তিন উৎস ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে দেশের ইটভাটাগুলোর ওপর একটি জরিপ করা হয়। তাতে দেখা যায়, দেশে ইটভাটার সংখ্যা ৪ হাজার ৯৯৫টি। ২০১৮ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপে দেখা যায়, ইটভাটার সংখ্যা বেড়ে ৭ হাজার ৯০২টি হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৮৭টি ইটভাটা ঢাকা বিভাগের মধ্যে গড়ে উঠেছে। ওই গবেষণার তথ্যানুযায়ী, ২০১০ সালে দেশে মোট যানবাহনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৭। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৪।

মন্ত্রী আরো জানান, প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএন’র এ দেশীয় পরিচালক রাকিবুল আমিনের মতে, বায়ু দূষণ মোকাবিলার প্রথম কাজ হচ্ছে দূষণের উৎস বন্ধ করা। দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে, শহরের বিভিন্ন স্থানে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা এবং জলাশয়গুলো রক্ষা করা। এ দূষিত বায়ুর মধ্যে নগরের মানুষ কীভাবে নিরাপদ থাকবে, সে ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৭ই ডিসেম্বর থেকে সচিবালয়ের চারপাশ এলাকাকে নিরব জোন হিসেবে ঘোষণা করা হবে। সচিবালয়ের চারপাশ অর্থাৎ জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড়, কদম ফোয়ারা, শিক্ষাভবন মোড় হয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকাকে নিরব জোন বা শব্দ বিহীন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এ এলাকায় কোনো পরিবহনকে কোনো প্রকার হর্ন বাজাতে বা শব্দ সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। ঢাকা শহরে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাইলট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এটা বাস্তবায়ন করা হবে। মন্ত্রী বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে হাইড্রোলিক হর্ন পুরোপুরি বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শহরে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় শব্দের উৎস সন্ধান করে তা বন্ধ করা হবে। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ইটভাটা থেকে পরিবেশ দূষণকারী পদার্থের নির্গমন বন্ধ হয় তা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে প্রতিদিন সকাল ও দুপুর দুই বার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় উপরে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিআরটি এবং মেট্রোরেল প্রকল্পকেও নিজস্ব উদ্যোগে পানি ছিটানোর অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি জানান, ইট, বালু, মাটিসহ নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনকারী ট্রাক বা গাড়িসমূহকে যাতে অবশ্যই ঢেকে মালামাল পরিবহন করে তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে পরিত্যক্ত বর্জ্য না পোড়ানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। মন্ত্রী জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর বায়ু ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে, যেগুলি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বাস্তবায়ন করবে। এলক্ষ্যে পূণরায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহবান করা হবে। মন্ত্রী বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমেই আমরা ঢাকা শহরকে বায়ু ও শব্দ দূষণ মুক্ত করতে পারবো।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.