বান্দরবান প্রতিনিধি: মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে নাজেহাল সারা বিশ্ব। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। তাছাড়া খেটে খাওয়া মানুষ কোন কাজ না পেয়ে ঘরে বসে সহায়হীন জীবন অহিবাহিত করছে। ঠিক তখনই করোনা ভাইরাসের থাবায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বান্দরবানের ৭ তরুণ।
করোনায় সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বান্দরবানের ভিক্ষুক, দিনমজুর ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন তাঁরা।
এরা হলেন – বান্দরবান পৌর এলাকার ইমরান উদ্দীন বাবু, মবিনুল ইসলাম জিকু, রিজভী রাহাত, একেএম এমরান জিতু, জিয়া উদ্দীন বাবলু, মেহেদী হাসান ও দেলোয়ার হোসেন।
জানা যায়, বান্দরবান পৌর এলাকার বালাঘাটা, হাজী পাড়া, রোয়াংছড়ি ষ্টেশন, কালাঘাটা, সেগুন বাগিচা, বনরুপা পাড়া, নোয়া পাড়া, নিউ গুলশান, বাসষ্টেশন, যৌথ খামার, আমতলী পাড়া, মেঘলা, গুরস্তান মসজিদ এলাকা, টিএনন্টি কলেনী এলাকা, ইসলাম পুর, কাশেম পাড়া, হাফেজ ঘোনা, মেম্বার পাড়া, আর্মি পাড়া, কেজি স্কুল এলাকা, বাজার এলাকায় যাচাই বাছাইয়ের পর স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে অসহায়-কর্মহীনদের বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন তাদের শুভেচ্ছা উপহার।
এ বিষয়ে মবিনুল ইসলাম জিকু বলেন, ‘করোনার এই পরিস্থিতিতে আমরা সাত জন বন্ধু মিলে এলাকার তরুণদের সাথে নিয়ে অসহায়, কর্মহীন মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আমরা এর আগে ভারসাম্যহীনদের নিজের অর্থ দিয়ে নিজেরা গিয়ে খাবার দিয়েছি।’
এমরান জিতু জানান, বান্দরবানে লকডাউন না হলেও সাধারণ ছুটির কারণে মানুষ কর্মহীন। সরকারের পাশাপাশি আমরা নিজেদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।
জিয়া উদ্দীন বাবলু বলেন, ‘পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে উপহার হিসেবে অসহায়, দুস্থ ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি আমরা। এ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’
আরেক এক মানবতার প্রেমিক রিজভী রাহাত বলেন, ‘সহযোগিতার মনোভাব নিয়েই করোনা সংকটে কর্মহীন মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি আমরা। আমরা যাদেরকে শুভেচ্ছা উপহার দিচ্ছি, আমরা ত্রাণ গৃহিতার কোন ছবি তুলি না, পুরো রমজান মাসেও এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
আরও বলেন, করোনা মহাদূর্যোগের কারণে এই মানবিক সহায়তা। এই সীমিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হবে না, তবুও গরীব ও দু:খী মানুষদের মুখে হাসি ফুটাতে সাধ্যমত সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছি। দেশের পরিস্থিতি ভালো না হওয়া পর্যন্ত সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবো। তবে যে কেউ চাইলে আমাদের সাথে সামিল হতে পারবেন।