বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার ঠেকাতে এবার নির্দেশনা দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-৪ থেকে এ সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই নির্দেশনায় বৈধ অস্ত্র হলেও সেটি প্রদর্শন করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়। এই নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে ওই নির্দেশনায়।
সম্প্রতি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে ক্ষমতাসীন দলের গ্রেফতার বা পলাতক একাধিক নেতার বাসা-অফিস থেকে অনেকগুলো বৈধ-অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়। টেন্ডার মাফিয়া জিকে শামীমের সাতজন দেহরক্ষীকেও গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ রয়েছেÑ ওইসব রাজনৈতিক নেতা নিজেদের প্রভাব বিস্তার ও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মে অস্ত্রের মহড়া ও ব্যবহার করে আসছিল। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে ৪ অক্টোবর দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকায় ‘নেতাদের ভান্ডারে এত অস্ত্র’ শীর্ষক প্রধান শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
সোমবার জারিকৃত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছেÑ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬’-এর অনুচ্ছেদ ২৫(গ) অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী কোনো ব্যক্তি অন্যের নিরাপত্তায় বা সম্পত্তি রক্ষায় অস্ত্রধারী প্রহরী হিসেবে নিয়োজিত হতে পারবেন না। কিন্তু তা লঙ্ঘন করে কেউ কেউ নিজের আগ্নেয়াস্ত্রসহ বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থায় বা অন্য ব্যক্তির দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে। এ ছাড়া অনুচ্ছেদ ২৫(ক) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি তার লাইসেন্স করা অস্ত্র আত্মরক্ষার জন্য বহন বা ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অন্যের ভীতি বা বিরক্তির কারণ হতে পারে, এমনভাবে তা প্রদর্শন করতে পারেন না। এটিও লঙ্ঘন করে কেউ কেউ জনমনে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় অস্ত্র আইন-১৮৭৮ কঠোরভাবে অনুসরণ এবং বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬’-এর অনুচ্ছেদ ২৫(গ) ও ২৫(ক) অনুসরণ করে অস্ত্র প্রদর্শন না করতে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্দেশ অমান্যকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।