২০১৮ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ইরাকের কুর্দি মানবাধিকারকর্মী নাদিয়া মুরাদ। শুক্রবার নরওয়ের নোবেল কমিটি নাদিয়া মুরাদ ও কঙ্গোর চিকিৎসক ডেনিস মুকওয়েজির নাম ঘোষণা করে।
নোবেল কমিটি বলছে, যুদ্ধকালে ও সশস্ত্র সংগ্রামের সময় যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে অবদান রাখায় নাদিয়া মুরাদ ও ডেনিস মুকওয়েজিকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
ডেনিস মুকওয়েজি তাঁর জীবনের বড় একটি সময় ব্যয় করেছেন কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে যৌন সহিংসতার শিকার মানুষের সাহায্যার্থে। যৌন নির্যাতনের শিকার হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসা করেছেন তিনি।
অপরদিকে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের সিনজার প্রদেশ। অঞ্চলটিতে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের বাস। প্রত্যন্ত গ্রাম কোচোর এক ইয়াজিদি পরিবারের মেয়ে নাদিয়া মুরাদ (২৫)। মা-বাবাসহ ১৬ ভাইবোনের এক হাসিখুশি পরিবার ছিল তাদের।
২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গ্রামে হামলা চালায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় ইয়াজিদি পুরুষদের হত্যা করে। আর যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহারের জন্য বন্দি করে নিয়ে যায় নারীদের।
নাদিয়ার চোখের সামনেই হত্যা করা হয় মা-বাবা ও ছয় ভাইকে। আর বোনদের সঙ্গে তাকে ধরে নিয়ে যায় জঙ্গিরা। আইএসের হাতে তিন মাস জিম্মি ছিলেন নাদিয়া। এ সময় আইএস যোদ্ধাদের যৌন লালসার অমানবিক শিকার হয়েছেন তিনি।
বারবার গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। চালানো হয়েছে নির্মম নির্যাতন। ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে অনেকবারই পালানোর চেষ্টা করেন নাদিয়া। শেষে মসুলের এক মুসলিম পরিবারের সহায়তায় পালাতে সক্ষম হন।
আইএসের আস্তানা থেকে পালিয়ে আসার পর অন্য সাধারণ নারীদের মতো মুখ বুজে থাকেননি তিনি। ধর্ষণের মধ্য দিয়ে আত্মগ্লানি তা শুধু নিজের মধ্যে চেপে রাখেননি নাদিয়া। বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন।
বিশ্ব নেতাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন আইএসের ঘৃণিত বর্বরতা। কিভাবে ইয়াজিদি নারীদের ধর্ষণ করেছে, হত্যা করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে জাতিসংঘ পর্যন্ত তার নির্যাতনের কথা বলেছেন।
তার মতো আরও হাজার হাজার ধর্ষিতা ইয়াজিদির করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন ধর্ষণকে কিভাবে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে আইএস। ২০১৬ সালে সেন্ট্রাল লন্ডনের ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস হাউসে দেয়া এক বক্তৃতায় আইএস জঙ্গিদের যৌন তাণ্ডব ও নৃশংসতার কথা তুলে ধরেন নাদিয়া।