বরগুনায় একটি কনসার্টে গান করবেন জেমস। সেখানে বসেই হঠাৎ খবর পেলেন কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু চিরদিনের জন্য পাড়ি জমিয়েছেন অন্যলোকে। প্রিয় সহশিল্পীর মৃত্যুতে কনসার্টেই কাঁদলেন জেমস।
মঞ্চে উঠে জেমস বলেন, ‘আজকের এই কনসার্টটি করার ইচ্ছা ছিল না। ১৫ বছর আগের একটা গল্প বলি। আমি আর বাচ্চু ভাই আড্ডা মারছি, একদিন বাচ্চু ভাইকে বললাম, শিল্পীদের জন্য ইংরেজিতে একটা কথা আছে, ‘শো মাস্ট গো অন’। তাই চেষ্টা করবো।’ কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন জেমস।
এরপর আইয়ুব বাচ্চুর স্মরণে গিটারে সুর তোলেন জেমস। সেই সময় তিনিও কাঁদছিলেন, আর তার গিটারের সুরে ছিল কান্না। শুধু বরগুনার মঞ্চ নয়, বাচ্চুর জন্য জেমসের সেই কান্নার আবেগ ছুঁয়ে গেছে সারা বাংলাদেশ। কান্নার সেই ভিডিও শোভা পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবু সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মাধ্যমে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরগুনা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় কনসার্টটি। জেমস কনসার্টটি উৎসর্গ করেন সদ্যপ্রয়াত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে।
আইয়ুব বাচ্চু প্রসঙ্গে জেমস বলেন, কেউ হয়তো জানবে না। আমাদের একে অপরের প্রতি কতোটা জায়গা ছিল। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল। সেটা সুস্থ গান তৈরির প্রতিযোগিতা। যখন দেখা হতো, একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছি।
আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে জেমসের পরিচয় ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে। এরপর দীর্ঘ ৪০ বছরের সম্পর্ক। বিভিন্ন কনসার্টে তারা একই মঞ্চে অংশ নিয়েছেন। আইয়ুব বাচ্চুর এই অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না জেমসও।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে ৮টায় হৃদরোগের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। সকাল সোয়া ৯টায় তাকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। পরে ৯টা ৫৫ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্কয়ার হাসপাতালের সার্ভিস বিভাগের পরিচালক ডা. মির্জা নাজিমুদ্দিন জানান, আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যু হয়েছে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার নিজ বাসাতেই। সোয়া ৯টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়।