অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত হবে। ঐ সময় খাদ্য, পোশাক ও বাসস্থানের অভাবে থাকা মানুষ এদেশে টেলিস্কোপ দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাবে।’
গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আয়োজিত ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। আরো বক্তব্য দেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফরিদা নাসরিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি রয়েছে। পদ্মা সেতু শেষ হওয়ার পর প্রতি বছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি আরো ১ শতাংশ বেশি হারে বাড়বে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে বাংলাদেশে। রয়েছে তরুণ ও বর্ধমান জনসংখ্যার সুযোগ নেওয়ার। কেননা, বর্তমানে বাংলাদেশে জনমিতিক লভ্যাংশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট’ সুযোগ বিদ্যমান। আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের উদ্ভাবনী কাজে গুরুত্ব দিতে হবে। রোবোটিকস, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বায়োটেকনোলজি, ন্যানো টেকনোলজি ভূমিকা রাখবে; যেখানে ব্লকচেইন চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ব্লকচেইন টেকনোলজির বাস্তবায়ন হলে এটি আর্থিক খাতে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখ প্রবাসী প্রতি বছর প্রায় সাড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। প্রশিক্ষণ দিয়ে এই পরিমাণ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো গেলে দেশে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আসবে।