করোনাভাইরাসের সংক্রমন রোধে সরকারের ১৪দিনের কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। এ সময় ব্যাংকের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলবে। লেনদেনের নতুন সময় নির্ধারণ করে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনা মতে আগামী রোববার ও বুধবার দেশের সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে আগামী ২, ৩ ও ৫ আগস্ট ব্যাংকে লেনদেনের সময় বাড়ানো হয়েছে। আজ বুধবার নতুন এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিবেচনায় আগামী রোববার ও বুধবার দেশের সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ব্যাংকে লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত।
দেশে চলমান কঠোর বিধিনিষেধে ব্যাংক লেনদেন চলছে সকাল ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত। গত ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ঈদের ছুটি শেষে সচল রয়েছে দেশের ব্যাংকগুলো। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারেও লেনদেন চলছে।
ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পরিপালনপূর্বক সীমিত সংখ্যক লোকবলের মাধ্যমে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অত্যাবশ্যকীয় বিভাগসমূহসহ ব্যাংক স্বীয় বিবেচনায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক শাখা খোলা রাখতে পারবে।
বিধিনিষেধ চলাকালে গ্রাহকদের হিসাবে নগদ/চেকের মাধ্যমে অর্থ জমা ও উত্তোলন, ডিমান্ড ড্রাফট/পে-অর্ডার ইস্যু ও জমা গ্রহণ, বৈদেশিক রেমিট্যান্সের অর্থ পরিশোধ, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের আওতায় প্রদত্ত ভাতা/অনুদান বিতরণ, একই ব্যাংকের খোলা রাখা বিভিন্ন শাখা ও একই শাখার বিভিন্ন হিসাবের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর, ট্রেজারি চালান গ্রহণ, অনলাইন সুবিধা সম্বলিত ব্যাংকের সব গ্রাহকের এবং উক্ত সুবিধা বহির্ভূত ব্যাংকের খোলা রাখা শাখার গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক চালু রাখা বিভিন্ন পেমেন্ট সিস্টেমস/ক্লিয়ারিং ব্যবস্থার আওতাধীন অন্যান্য লেনদেন সুবিধা প্রদান এবং জরুরি বৈদেশিক লেনদেন সংক্রান্ত ব্যাংকিং সেবা চালু রাখতে হবে। বিধিনিষেধ চলাকালে ব্যাংকগুলোকে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। একই সঙ্গে এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত নোট সরবরাহসহ সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।
সমুদ্র/স্থল/বিমান বন্দর এলাকায় (পোর্ট ও কাস্টমস এলাকা) অবস্থিত ব্যাংকের শাখা/উপ-শাখা/বুথসমূহ সার্বক্ষণিক খোলা রাখার বিষয়ে আগের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসনসহ বন্দর/কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনাক্রমে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্য বিধি কঠোরভাবে পরিপালন নিশ্চিতপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিধিনিষেধ চলাকালে যেসব শাখা বন্ধ থাকবে সেসব শাখার গ্রাহক সেবা কার্যক্রম খোলা রাখা শাখার মাধ্যমে সম্পাদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বন্ধকৃত শাখার গ্রাহকগণের গ্রাহক সেবা প্রাপ্তি বিষয়ে অবহিত করতে উক্ত শাখার দৃশ্যমান স্থানে তা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে।
প্রসঙ্গত, মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ সব ধরনের দোকানপাট, গণপরিবহন এবং শিল্পকারখানা বন্ধ রেখে গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টায় শুরু হয় ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ, যা চলবে আগামী ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত।