Sunday, August 23

‘আগে সরকার ছিল অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল’

0

দেশের সর্বত্র লুটপাট চলছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, লুটপাটতন্ত্র কায়েম করেছে সরকার। তিনি বলেন, আগে সরকার ছিল অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল। এখন হয়েছে- অব দ্য লুটেরাস, বাই দ্য লুটেরাস, ফর দ্য লুটেরাস। এ ছাড়া আর কিছু নেই।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় বিএনপিপন্থী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনালিস্ট রিসার্স সেন্টার আয়োজিত ‘আমার দেশ আমার শিল্প’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, একেবারে তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত এখন লুটপাট চলছে। টিআর কাবিখা থেকে শুরু করে একেবারে মেগাপ্রজেক্ট পর্যন্ত সব জায়গায় ভাগ-বাটোয়ারা চলছে। তিনি বলেন, জানি না কত দূর সত্য, শুনতে পারলাম মেগাপ্রকল্প মেট্রোরেল ও এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ের টিকিটিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও ক্ষমতাসীন দলের লোকদের দেয়া হচ্ছে। স্ট্যান্ডগুলো তাদের একেকজন লোকের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হচ্ছে। বিদেশিদের নাকি বাধ্য করা হয়েছে, টিকিটের দায়িত্ব সরকারদলীয় লোকজনদের দিতে। এই যদি অবস্থা হয়, তা হলে এটি লুটপাট ছাড়া আর কিছু নয়।

চামড়াশিল্পকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে চামড়াশিল্পকে ধ্বংস করছে। এ জন্য সিন্ডিকেট করে চামড়া দামে কারসাজি করা হয়েছে।

ভারতের চামড়াশিল্পে বিনিয়োগ ও প্রচুর কর্মসংস্থানের উদাহরণ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের বেনাপোল থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে বানতলা নামক স্থানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ছোট একটি চামড়াশিল্প নগরী ছিল। সেটিকে এখন নতুন করে বড় আকারে একটি লেদার সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৮০ হাজার কোটি টাকা নতুন করে বিনিয়োগ করেছে। ইতালি থেকে বিনিয়োগকারী আনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু দিন আগে সেটি উদ্বোধন করেছেন। ভারতের কানপুরের সব ট্যানারি বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানকার ট্যানারি মালিকরাও বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে ওই (বানতলায়) লেদার সিটিতে নতুন করে ব্যবসা শুরু করার অনুমতি নিচ্ছে। এতে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে একটা নতুন অধ্যায়ের শুরু হয়েছে।

এমতাবস্থায় দেশ বাঁচাতে দেশপ্রেমিক নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মির্জা ফখরুল। বলেন, অন্যায়ভাবে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তার জামিনে বাধা দেয়া হচ্ছে। দেশ বাঁচাতে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সংকট উত্তরণের জন্য সুষ্ঠু একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এ জন্য প্রথম প্রয়োজন নির্বাচন কমিশন ভেঙে দেয়া এবং নির্বাচনী সময়ের জন্য একটি নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করা। যাদের কাজ হবে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা।

‘জনগণের ম্যান্ডেট নেয়া সরকার প্রতিষ্ঠায় নতুন নির্বাচন করতে হবে। এর বাইরে দেশের জনগণের সংকট উত্তরণ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের কোনো বিকল্প নেই’-যোগ করেন ফখরুল।

আয়োজক সংগঠনের পরিচালক বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বরকতউল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জি.টিএস আইয়ুব।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.