আজও সড়কে নেই যানবাহন। ভোগান্তিতে দেশের মানুষ। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত কয়েক দিনের ছাত্র বিক্ষোভের জের ধরে এবার ‘অঘোষিত ধর্মঘট’ ডেকে পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রি সাধারণ ও ভোগ্যপন্য সরবরাহকারী যান।
‘নিরাপত্তা’র অজুহাতে গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীসহ সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন মালিকরা। সকালে অফিসমুখী যাত্রী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে ও রিকশায় যেতে হচ্ছে। রাজপথের সড়ক ফাকা হয়ে আছে।
শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরলেও আজ রবিবার রাজধানীর বিভিন্ন রুটে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু রাজধানীতেই নয়, ঢাকা ছাড়ছে না দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী দূর-পাল্লার বাসও। কোনো ধরনের কর্মসূচি না থাকলেও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কে ভাঙচুরের কারণে পরিবহন শ্রমিকরা বাস চালাতে চাইছেন না। তবে মালিকরা বাস নামাতে দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
প্রাইভেট কার, সিএনজি অটোরিকশা আর রিকশায় করেই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে কাঙ্খিত গন্তব্যে যাওয়া জনগণকে। সিএনজি অটোরিকশা আর রিকশার অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে অনেকে আবার রওয়ানা দিয়েছেন পিকআপ ভ্যানে চড়ে। কেউ কেউ পায়ে হেটেই অফিস মুখি হচ্ছেন।
রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, ফার্মগেট, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, প্রগতি সরণি, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকার চিত্র এটি। চট্টগ্রামের ২নং গেইট, বহদ্দারহাট, চকবাজার এলাকায় মাঝে দুএকটা টেম্পু দেখা গেলেও নেই অতিরিক্ত ভীরের কারনে যাত্রিদের মাঝে সংঘর্ষ লেগে যায়। সড়কে নেই সহজে চলার মতো গাড়ি। একজন পথচারী রফিক বলেন, ছাত্ররা তো এখন আন্দোলনে নেই। এরপরও বাস চলে না কেন?
অনেক গুরুতর রোগীকে হাসপাতালে আনা নেয়া করা যাচ্ছেনা। কষ্ট পাচ্ছে অনেক রোগী।
সরকার নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এটা হয়তো পরিবহন মালিকরা চায় না। কারণ ছাত্রদের দাবি মেনে নিলে তারা ইচ্ছামত সড়কে গাড়ী চালাতে পারবে না। আর এ জন্যই অঘোষিত ধর্মঘট ডেকেছে।
গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই বাসের রেষারেষিতে চাপা পড়ে দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা।