Saturday, August 22

আজ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আ. লীগের সম্মেলন

0

দীর্ঘ ৭ বছর পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সম্মেলন। এ সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মী কর্মী থেকে শুরু করে তীনমূল পর্যায়ের সমর্থকদের মাঝে আলোচনা সমালোচনা উৎসাহ উদ্দিপনার বিরাজ করছে। অন্য দিকে কারা হচ্ছেন উত্তর জেলার কাণ্ডারি তা নিয়েও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে নেতাকর্মীরা।

এ দিকে সম্মেলনকে ঘিরে উত্তর চট্টগ্রামের ৭ উপজেলাসহ নগরজুড়ে সাজ সাজ রব। পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে অলিগলি থেকে রাজপথ। সম্মেলনে ১০-১২ হাজার লোকের সমাবেশ হবে বলে আশা করছে নেতারা।

আজ সকাল ১০টায় নগরীর লালদীঘি মাঠে শুরু হবে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

বিশেষ অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কেন্দ্রীয় উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

সভাপতিত্ব করবেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন হবে বেলা ২টায় নগরীর কাজীর দেউড়ির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে। এ পর্বটি শুধু কাউন্সিলরদের জন্য। ৩৬৬ জন কাউন্সিলর রয়েছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগে। এখানে কাউন্সিলরা তাদের ভোটে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করবেন।

এবারের সম্মেলনে সভাপতি পদে নেতাকর্মীদের মধ্যে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দুজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন– বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে থাকা রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার নগরীর লালদীঘির ময়দানে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের এই সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাতটি উপজেলা, ৯টি পৌরসভার ৩৬৮ কাউন্সিলরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১২ সালের ২৫ ডিসেম্বর। এতে কাউন্সিলরদের ভোটে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সভাপতি ও এমএ সালাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হলে ওই পদে কমিটির তিন নম্বর সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল আলম চৌধুরীকে মনোনীত করা হয়। গত ২৭ জানুয়ারি নুরুল আলম মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে ২ নম্বর সহ-সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, শনিবার উত্তর জেলার সম্মেলনে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগসহ উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও সম্মেলনে যোগ দেবেন। আশা করছি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবেই এই সম্মেলন শেষ হবে। এতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাই নির্বাচন করবেন কাউন্সিলরা। তবে দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেকই সবকিছু বাস্তবায়ন হবে বলে জানান তিনি।

দলীয় একটি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় সভাপতি পদটি সমঝোতার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হতে পারে। এক্ষেত্রে ফজলে করিম চৌধুরী সভাপতি হলে এমএ সালামই টানা (২৭ বছর ধরে) পঞ্চমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন। আর এমএ সালাম সভাপতি হলে সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমীকরণ সামনে রেখে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য অনেকে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

সভাপতি পদের সমীকরণের ওপর নির্ভর করে সাধারণ সম্পাদক প্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে তারা হলেন– মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (সাবেক) শেখ আতাউর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ পালিত, নির্বাহী সদস্য ও মিরসরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন।

এ প্রসঙ্গে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, সবকিছু নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.