Thursday, August 20

একাত্তর এর সুর্য সন্তানদের প্রতি দেশে এই প্রথম বেনাপোলে আমরা কৃতজ্ঞতা সমাবেশ এর আয়োজন করলাম
আজ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের আসন থাকবে মন্ত্রী এমপি মেয়র সহ সকল পর্যায়ের সামনের সারিতে—মেয়র আশরাফুল আলম লিটন

0

মোঃ আয়ুব হোসেন পক্ষী,বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধি: মহান মুক্তিযুদ্ধের ৪৮ তম বিজয়ের দিনে দেশের সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করে দেশে এই প্রথম বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কৃতজ্ঞতা সমাবেশ এর আয়োজন করলেন বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন। বেনাপোল পৌর কমিউনিটি সেন্টার ”বিয়ে বাড়িতে” অনুষ্ঠিত এই ব্যাতিক্রমি সমাবেশে বেনাপোল শার্শা তথা যশোর জনপদের ২৫ জন বীর যোদ্ধাকে সংবর্ধিত করা হয়। সভার সভাপতি মেয়র আশরাফুল আলম লিটন নিজ হাতে সূর্য সন্তানদের উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে বুকে টেনে নেন।

সোমবার পড়ন্ত বিকেলে ”বিয়ে বাড়ির” হল ঘরে ঠাসা নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধ বনিতার উপস্থিতিতে আয়োজিত এই কৃতজ্ঞতা সমাবেশে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন সহ বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিধ বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আলহাজ্ব মোঃ আহসান উল্লাহ মাষ্টার, বেনাপোল পৌর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহ-আলম, বীর মুক্তযোদ্ধা শেখ শহীদ উল্লাহ বাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীন সাংবাদিক কবি আলতাফ চৌধুরী, ও বেনাপোল পৌর সভার সচীব রফিকুল ইসলাম। সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কোর-আন তেলোয়াত করা হয়। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া, ক্রেষ্ট প্রদান, ও ফুলেল সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপরই জাতীয় সংগীত পরিবশেন করে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়। আলোচনা পর্বের শুরুতেই একটি স্বরোচিত কবিতা পাঠ করে শোনান এমদাদুল হক বকুল। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বেনাপোল পৌর আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক শ্রী সুকুমার দেবনাথ।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আয়োজিত এই কৃতজ্ঞতা সমাবেশে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, ইতিহাসের মহা নায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে যে বীর যোদ্ধারা তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করে রনাঙ্গনের ময়দানে প্রানপণ লড়াই করে বর্বর পাকিস্থানী সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে আমাদের গোটা জাতিকে যে বীরত্ব গাঁথা উপহার দিয়েছেন, লালসবুজের পতাকা দিয়েছেন, স্বাধীন সার্বোভৌম ভূখন্ড দিয়েছেন সেই সুর্য সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা সমাবেশ এর আয়োজন দেশে এই প্রথম। এই সৌভাগ্য আমি পেলাম যার জন্যে সেই মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আমার সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ইতিহাসের এই মহানায়ক আমাদেরকে দিয়ে গেছেন একটি অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন সার্বোভৌম দেশ। যার পতাকা আজ বিশ্ব মানচিত্রে সগৌরবে উড়ছে। সেই মহানায়কের যে আদর্শ, সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অর্থাৎ অর্থনৈতিক মুক্তি সমৃদ্ধি জ্ঞান বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ ক্ষুদা দারিদ্র মুক্ত একটি উন্নত জাতির স্বপ্ন দেখিয়েই এই রাষ্ট্রটি আমাদের উপহার দিয়েছেন। দুর্ভাগ্য জনক হলো একদল লোক যারা আবার সেই পাকিস্থানী কায়দায় আমাদেরকে পিছনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায় তারা ৭৫” এর পর অনেক অপচেষ্টা চালিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আদর্শ ভুলুন্ঠিত করেছেন। তাদের এই অপচেষ্টা কিছুদিনের জন্য হলেও জাতি লক্ষ করেছে। তা না হলে এত দিনে আমাদের এই দেশ বিশ্ব মানচিত্রে একটি শীর্ষ জাতিতে পরিণত হতে পারত।

মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, আমি আজ যে যাত্রা শুরু করে দিয়ে গেলাম আমি পৌর মেয়র থাকি আর না থাকি আমি জীবিত থাকি আর না থাকি আমার অনুসারি যাদেরকে রেখে যাচ্ছি তারা যতদিন এই ইতিহাসের স্বাক্ষীরা বীর যোদ্ধারা জীবিত থাকবেন তাদেরকে এ ভাবেই সন্মানিত করবেন এই বিশ্বাস আমার আছে। এই ইতিহাস এই মুক্তিযোদ্ধারা এই সুর্য সন্তানরা একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছেন। হয়ত আমরা আর তাদেরকে বেশীদিনে পাবো না তবে যতদিন পাবো যাদের জন্য আমি এই আশরাফুল আলম লিটন হতে পেরেছি তাদেরকে এভাবেই সন্মানিত করে যাব।

তিনি বলেন ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের একটি দেশ উপহার দিয়েছেন, আর সেই দেশের হয়ে কাজ করছেন একজন মন্ত্রী একজন এমপি একজন মেয়র। সুতারং মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার এই দেশের সকল জায়গায় সকল ক্ষেত্রে। আজ হতে সেই সকল বীর মুক্তিযোদ্ধারা আর কোথাও পিছনে থাকবে না, তাদের চেয়ার থাকবে সকল মন্ত্রী সংসদ সদস্য, মেয়র এর সামনে।

সমাবেশে আহসান উল্লাহ মাষ্টার বলেন পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন যে সুন্দর আয়োজনের যাত্রা শুরু করলেন সে জন্য আমরা তার প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা ও সন্মান প্রকাশ করছি।পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আতœত্যাগের প্রতি বীন¤্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহআলম বলেন জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মুল লক্ষ অর্জন করতে পারব এই আশা রাখি। বীর মুক্তযোদ্ধা কবি আলতাফ চৌধুরী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে আমরা যুদ্ধ করতে পেরেছি এ আমাদের পরম সৌভাগ্য। কিন্তু আজ দেখি মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা তা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি; যখন দেখি আমার জাতিয় পতাকার ও জাতিয় সঙ্গীতের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয় তখন হৃদয়ে রক্তক্ষরন ঘটে। এই অবজ্ঞার প্রবণতা নির্মুলের জন্য সরকার প্রশাসন তথা গোটা সচেতন জনগোষ্টিকে এগিয়ে আসতে হবে।

সমাবেশে যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় সেই সুর্যসন্তানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ আব্দুল মান্নান,মোঃ কওছার আলী, মোঃ মতিয়ার রহমান, মোঃ শাহ আলম, আঃ রহমান, আঃ রশিদ, আবু সামা, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, শেখ শহীদ উল্লাহ, মোঃ আতিয়ার রহমান, মোঃ বাবুল মন্ডল, মোঃ সামছুল হুদা, মোঃ হানেফ কাজী,মোঃ আবুল হোসেন, মোঃ নুরুল ইসলাম, মোঃ আব্দুল লতিফ, মোঃ মাহাবুবুর রহমান, মোঃ নুরুল হক, মোঃ নুরুল ইসলাম, মোঃ সৈয়াদ আলী, মোঃ দ্বীন ইসলাম মল্লিক, মোঃ মুজিবুর রহমান, মোঃ মোফাজ্জেল বাবলু, মোহাম্মাদ আলী, মোঃ মোক্তার আলী ও আলতাফ চৌধুরী।

সমাবেশে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন ঘোষনা করলেন এই সূর্য সন্তানরা এখনো যারা আমাদের মাঝে রয়েছেন অতি দ্রুতই তাদের প্রত্যেকের ছবি প্রট্রেট একে বাঁধাই করে পৌর ভবনে সংরক্ষন করবেন এবং প্রত্যেক যোদ্ধার বাড়িতে একটি করে পাঠিয়ে দিবেন । সমাবেশ শেষে বীর যোদ্ধাদের বিয়ে বাড়ির সামনে এক সারিতে একসাথে উত্তরীয় ক্রেষ্ট পুস্প স্তবক সহ ছবি ভিডিও ধারন করে নেওয়া হয়। যারা এই যোদ্ধাদের ছবি ভিডিও চিত্র ধারন করলেন তাদের ভিতর যে গুলো সেরা হবে তাদের পুরস্কৃত করার ঘোষনাও তিনি করেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.