আবদুল্লাহ আল মামুন, ফটিকছড়ি: আজ ভয়াল ১১ এপ্রিল! ভূজপুর ট্রাজেডি দিবস সাত বছরেও অধরা রয়ে গেছে মামলার অনেক মূল আসামী ও ঘটনার নেপথ্যে নায়করা।
আজ ১১ এপ্রিল ভূজপুর তান্ডবের সাত বছর পূর্ণ হলো। এঘটনার ৫টি মামলার মধ্যে নিহতের স্বজনদের করা ৩টি মামলা সিআইডিতে তদান্তধীন এবং অপর ২টি মামলার চার্জশীট আদালত গ্রহণ করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল জামায়াত শিবিরের ডাকা হরতালের দিন আওয়ামীলীগের হরতাল বিরোধী মিছিলে পরিকল্পিতভাবে মসজিদের মাইকে মসজিদ পুড়ানো এবং ডাকাতি প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়ে সশস্ত্র হামলা করেছিল হরতাল সমর্থক জামায়াত-শিবির। রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল ভূজপুর, কাজিরহাট, কালাইয়ার টেক, ন্যাশনাল স্কুল, আজিমপুর, ফকিরহাট, বাইন্যপাড়া, ব্রীকফিল্ড এলাকা। পুড়িয়ে দেয়া হয় জিপ, মাইক্রো-হাইছ, কার সহ ২ শতাধিক মোটরসাইকেল এবং ফায়ার সার্ভিসের মূল্যবান গাড়ি। নির্মমভাবে হত্যা করা হয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মী বিপুল, রুবেল ও ফোরকানকে। এঘটনায় দায়ের করা নিহত ফারুক ইকবাল বিপুল, রুবেল ও ফোরকানের পরিবারের সদস্যরা বাদি হয়ে ৩টি মামলা দায়ের করেন। সরকারি সম্পদ ধ্বংস ও সরকারি কাজে বাধা দানের ঘটনায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ২টি মামলা হয়। ২০১৪ সালের ১১ জুন নিহতের পরিবারের করা তিনটি মামলার চার্জশিট চট্টগ্রাম আদালতে দাখিল করেছে ভূজপুর থানার পুলিশ।
আদালত সূত্র জানায়, তিনটি মামলার অভিযোগপত্রে মোট ৬২৩ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে মো. রুবেল হত্যা মামলায় ২১৯ জন, ফারুক ইকবাল বিপুল হত্যা মামলায় ২০৭ জন ও ফোরকান মিয়া হত্যা মামলায় ১৯৭ জনকে আসামি করা হয়। তিনটি মামলাতেই ভূজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা শফিউল আলম নূরীকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। দাখিলকৃত চার্জশীটের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছে বাদিপক্ষ। এরপর চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কুদরত ই এলাহী মামলা তিনটি অধিকতর তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম জেলা সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৫ সালে ভূজপুর থানার তৎকালীন এস আই মুজিবর রহমান বাদি হয়ে হত্যা, গুরুতর জখম, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে একটি এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পোড়ানোর দায়ে তৎকালীন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সমীর দাশগুপ্ত বাদি হয়ে করা মামলার চার্জশীট দাখিল করা হয়। আদালত চার্জশীট গ্রহণ করে।
এখনো দেখা যায়, সারা ভূজপুরে এখনও বিরাজ করছে সেই দিনের তান্ডব ও পুলিশী আতংক। ছয় বছরেও কাটেনি শংকা। স্বাভাবিক হয়নি জনজীবন। অধরা রয়ে গেছে মামলার অনেক মূল আসামী ও ঘটনার নেপথ্যে নায়করা। এঘটনায় আহত ও নিহতের পরিবারগুলোর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এখনও পায়নি পর্যাপ্ত সহায়তা। নিহত ও আহতের পরিবারগুলো এখনও সেই যন্ত্রণাময় স্মৃতি বুকে নিয়ে গুমড়ে গুমড়ে কাঁদছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ঘটনায় আহত ও নিহতদের জন্য প্রদত্ত ২কোটি ২লক্ষ টাকা নিয়েও লুটপাট চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুবলীগ নেতা ফারুক ইকবাল বিপুল হত্যা মামলার বাদি ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউল হক জিয়া বলেন, সে দিনের ঘটনায় আমিও গুরুতর আহত হই। কোন রকম প্রাণ নিয়ে আমি ফিরে এলেও আমার মামা বিপুল, রুবেল ও ফোরকানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার ভিডিও ফুটেজ দেখেও পুলিশ মূল হোতাদের এখন গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন,পুলিশ প্রদত্ত চার্জশীটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দিয়েছি। মামলাগুলো এখন সিআইডিতে অধিকতর তদন্ত চলছে। আর কত বছর পেরুলে এই হত্যাকান্ডের বিচার পাব?
শহীদ তিন পরিবারেরই দাবি, বছরের একটি দিন এই ১১ ই এপ্রিল ভুজপুর ট্রাজেডি দিবসে বিপুল, রুবেল, ফোরকান এর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। বাকি সারাবছরই তাদের খোঁজখবর নেওয়ার কেউ থাকেনা।